আমাদের ইন্ডিকা গাড়ি কেনা হয়েছিল ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। গাড়ির নম্বর 7677. এটা আমাদের প্রথম গাড়ি, স্টিল রঙের । বেহালা থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিস যাওয়াটা অনেকটা সহজ হয়ে গেছিল আমাদের দুইবোনের। তবে জার্নিটা খুব লম্বা হত। তাই ফেরার সময় আমরা সপ্তাহে অন্তত দু থেকে তিনদিন অফিস ফেরত কোথাও বেড়াতে চলে যেতাম। আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বা মেলা বা শপিং যাওয়া খুব ঘন ঘন সম্ভব হতো ওই গাড়ির জন্য।
আমাদের সব আত্মীয়দের মধ্যে আম্মার বাড়ি অফিস থেকে সব থেকে কাছে, পিকনিক গার্ডেন,বাইপাস ধরে সোজা রাস্তা। তাই আমরা খুব ঘন ঘন অফিস ফেরত আম্মার কাছে চলে যেতাম। কখনও এক ঘন্টা কখনও দেড় ঘন্টার জন্য। মা মাঝে মাঝে আমাদেরকে ওখানে মিট করত। তারপর পেট পুড়ে হবার খেয়ে বা কোনোদিন টিফিন বক্সে করে খাবার ভরে বাড়ি আসতাম। গেলেই আম্মা বলতো "ক্ষুধা পাইসে ?" গৌরীদির হাতে তৈরী গরম রুটির সাথে আম্মার তৈরী চিকেন কারিটা খুব খাওয়া হতো। সাথে থাকতো অবশ্যই ক্যাপসিকামের রায়তা আর অল্প মিষ্টি আর কিশমিশ দেওয়া দুধের চাচী সমেত সেমাইয়ের পায়েস। তখনো জানতাম না এসব দিনগুলো হাতে গোনা !
গত রোববার ক্যাপসিকামের রায়তা বানিয়েছিলাম। টক দই ফেটিয়ে তাতে কুচি করে কাটা ক্যাপসিকাম আর সামান্য বিটনুন দিয়ে । আম্মা ক্যাপসিকাম গুলো পাতলা ফুলের মতো করে কেটে দইয়ে দিয়ে দিত।
রবিবার বাইরে খুব বরফ পড়েছিল। চারিদিক সাদা....ঠিক যেন আম্মার শাড়ির আঁচল !




No comments:
Post a Comment