Saturday, January 6, 2018

||মামমামের মশলা মুড়ি||

ছেলেবেলায় নববর্ষ দিনটা ছিল বিশেষ আনন্দের, সেইদিনটা পড়াশোনা থেকে ছুটি।নবদ্বীপের দেশের বাড়িতে সবাই জমায়েত হতাম ,বুড়োশিবতলার মেলা জুড়ে আমাদের ভাইবোনদের অজস্র কৌতূহল। বুড়োশিবের বিয়ে, নীল পুজো ততদিনে হয়ে গিয়েছে ,মেলার পুতুল ,পিঠে লোহার  আংটা পরে কোনো এক বলশালী মানুষের চড়কিপাক, কানের কাছে বাঁশিওয়ালার বাঁশির শব্দ ,পায়ে হেঁটে ভিড় ঠেলে এগলি ওগলি দিয়ে এবাড়ির উঠোন ওবাড়ির দালান পেড়িয়ে কোথাও প্রিয়জনের হাতের পরম যত্নে তৈরী  আচার চুরি করে খাওয়া কোথাও মিষ্টির বাক্স খুলে ভাগ করে নেওয়া নানান আকারে গড়া এক গুচ্ছ ছেলেবেলা। আর পরিচিত মানুষদের সাথে  দেখা হলেই হয়ে প্রণাম নয় শুভেচ্ছা বিনিময়। সন্ধ্যেবেলায় পরিবারের সকলে মিলে আড্ডা গান বাজনা খাওয়া দাওয়া, ন'কাকিমার রান্নাঘরে তদারকি - বাড়ি কারো যেন অযত্ন না হয়,ঠাকুমার পরম যত্নের রান্নাঘরের প্রতিটি কোণে আজও সমান সেই যত্নের ছোঁয়া । আমরা মজা করে বলতাম দ্রৌপদীর হাঁড়ি , সবার জন্য কিছু না কিছু সব সময় প্রস্তুত। বাবা কাকা জেঠাদের সমবেত কণ্ঠে গান, মা কাকিমা জেঠিমাদেরদের গল্প, পিসিদের  কাছে বাবাদের ছোটবেলার গল্প শোনা , এরই মধ্যে  আসর মাতিয়ে রাখতে ঠাকুরের আসনের টাটকা জুঁই ফুলের মালা বা ঠাকুমা ঠাকুরদার ছবিতে যত্নে পড়ানো রজনীগন্ধার মালা জানান দিত পুরোনোর দিন শেষ। বাড়ির উঠোনে ঠাকুরদার নিজে হাতে লাগানো আম গাছ মহীরুহে পরিণত হয়েছিল। পয়লা বৈশাখের দিন সন্ধ্যের আসরে সেই আম গাছের ফাঁক দিয়ে বিগত বসন্তের শিরশিরে বা আগামী বৈশাখের হালকা হাওয়ার আনাগোনায় এক অদ্ভুত শব্দের সৃষ্টি হতো। জানান দিত ঠাকুরদার আম গাছ ও সামিল আমাদের সেই আসরে। নতুন পোশাকের গন্ধের সাথে মিলে মিশে একাকার হতো পরিবারের আনন্দের গন্ধখানি। বিকেলের আড্ডা বা গান বাজনার আসরে রাধাবাজারের সিঙ্গারা হত(এবং এখনো হয়)  ষ্টার অফ দা শো। আর তার সাথে মামমামের মাখা মশলা মুড়ি।মামমাম আমার মেজো জেঠি। মামমামের মশলা মুড়ি অবিকল লোকাল ট্রেনের মুড়ি মাখার মতো খেতে। কাঁচা সর্ষের তেল,কাঁচা পেঁয়াজ কুচি, লঙ্কা কুচি, আদা কুচি, আলু সেদ্ধ, সেদ্ধ ছোলা,ঝাল চানাচুর, টমেটো কুচি, ধনেপাতা কুচি সব কিছু দিয়ে মাখা মশলা মুড়ি। মুড়ি মাখা হলে এলুমিনিয়ামের বড় থালায় করে সে মুড়ি নিয়ে বসা হয় আড্ডা চক্রের ঠিক মাঝখানে, ন' কাকিমার  খাটে। আর উত্তেজনার বসে সবাই  মুঠো মুঠো মুড়ি তুলে নিতাম আর তার সাথে এক কামড় করে সিঙ্গারা। সারা ঘর জুড়ে তখন পেঁয়াজ বা চানাচুর চেবানোর কোটর মোটর শব্দ ! প্রথমবার মশলা মুড়ি মুখে ঢুকলেই গালের আশপাশ থেকে তীব্র বেগে স্যালিভা ছুটে বেড়িয়ে আসার সাথে সাথে কাঁচা পেঁয়াজ, লঙ্কা আর  সর্ষের তেলের গন্ধ মিশে মাথার মধ্যে একটা সুন্দর ছবি ঘোরা ফেরা করত। ঠিক যেন লোকাল ট্রেনে করে সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে রেলগাড়ি চেপে বেড়াতে যাচ্ছি আর হাতে কাগজের  ঠোঙায় ভরা ট্রেনের বিখ্যাত "মস্সলা মুড়ি", স্বাদ তা এতটাই কাছাকাছি ! ছোট পিসি সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে অবিরাম চায়ের সাপ্লাই দিয়ে যেত (এখনো দেয় ).রান্না ঘর থেকে। মজার ব্যাপার হলো এই এক থালা থেকে মোটামুটি গোটা বাড়ির লোকেরা মুড়ি খেতে জড়ো হত এবং মুড়ি মাখা তলানিতে গিয়ে ঠেকলে তারপর কারকারী করে খাওয়া দিয়ে মুড়ি পর্ব শেষ হত। 

আজও আছে সেই আড্ডার গন্ধ - তফাৎ এইটুকুই সে মিষ্টি গন্ধ এখন শুধুমাত্র দেশের বাড়ির ন'কাকিমার খাটের আড্ডায় আর সীমিত নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবী জুড়ে - তার নানান প্রান্তে, যেখানে যেখানে ছিটকে পড়েছে পরিবারের মানুষগুলো। আর সাথে ছড়িয়ে পড়েছে মামমামের মুড়ি মাখা রেসিপি।একেই বোধ হয় নস্টালজিয়া বলে।



আমেরিকায় বেড়াতে এসে জেঠিমা আমাদের বাড়ি মশলা মুড়ি বানিয়ে খাইয়েছে। তার ছবি তুলে রেখেছিলাম মাঝে মাঝে অন্তত দেখে আনন্দ পাবার জন্য। 


Monday, January 1, 2018

।।ছবিতে ২০১৭ ভ্রমণপর্ব ।।


২০১৮ র প্রথম পোস্টে ছবিতে ২০১৭ র ভ্রমণপর্ব গুলো সাজালাম।
********************************************************************

জানুয়ারী :পুরী ,ওড়িশা ,ভারতবর্ষ 



ফেব্রুয়ারী দেশ থেকে ফিরে এসে দুঃখ দূর করতে বেড়ানো থেকে বিরতি 


মার্চ :বস্টন ,ম্যাসাচুসেটস 

 এপ্রিল : থ্যাচার পার্ক , নিউ ইয়র্ক 


মে :পেন্সাকোলা, ফ্লোরিডা 


রভিংটন, নিউ ইয়র্ক 





 এল্মসফোর্ড ,নিউ ইয়র্ক 



জুন :নায়াগ্রা, নিউ ইয়র্ক 


ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া 




জুলাই :ইথাকা, নিউ ইয়র্ক 



ম্যানহাটান, নিউ ইয়র্ক 


আকাডিয়া ন্যাশনাল পার্ক, মেইন  





অগাস্ট :ম্যানহাটান, নিউ ইয়র্ক






স্মোকিস ন্যাশনাল পার্ক, সাউথ ক্যারোলিনা 





সেপ্টেম্বর:মন্ট্রিয়েল, কানাডা 





লেক জর্জ, নিউ ইয়র্ক 



অক্টোবর:আলগোনকুইন প্রভিন্সিয়াল পার্ক, কানাডা 




লেক সাম্প্লেন, নিউ ইয়র্ক 








নভেম্বর: ক্রোটন -ওন-হাডসন, নিউ ইয়র্ক



ভ্যালি অফ ফায়ার স্টেট পার্ক, নেভাদা 


গ্রান্ড ক্যানিয়ন, নর্থ রিম, আরিজোনা



জিওন ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্ক, উটাহ 


ব্রাইস ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্ক, উটাহ



ক্যাপিটল রীফ  ন্যাশনাল পার্ক,উটাহ




ডেড হর্স পয়েন্ট স্টেট পার্ক ,উটাহ


মেসা  আর্চ,ক্যানিয়নল্যান্ডস ন্যাশনাল পার্ক,উটাহ 



আইল্যান্ড ইন দা স্কাই, ক্যানিয়নল্যান্ডস ন্যাশনাল পার্ক, উটাহ




ডিসেম্বর: ম্যানহাটান, নিউ ইয়র্ক 




আপাতত বাড়ি যাবার প্রস্তুতি ।