Wednesday, November 15, 2017

||ধনঞ্জয়ের কিশ ||

আজ ধনঞ্জয়ের ফরাসি রান্না কিশ খাওয়ানোর খুব ইচ্ছে হয়েছিল। তবে আমি ধনঞ্জয়কে আগেই বলে দিয়েছিলাম যে চিজ আমি খাবোনা। চিজ ছাড়া যে বেশ ভালো কিশ হয় তা প্রমাণিত হয়ে গেলো প্রথম কামড়ে। প্রণালীটা লিখে নিলাম পাছে ধনঞ্জয় রেসিপি না দিয়েই পালিয়ে যায় গল্প হলেও সত্যির মত!

উপকরণ :

১. আলু - সরু সরু গোল গোল/ চাকা চাকা  করে কাটা 
২. অলিভ অয়েল - ৩-৪ চা চামচ 
৩. ডিম্ - ৪
৪. সুইট পেপার - নানান রকম রঙের 
৫. পেঁয়াজ - লম্বা সরু করে কাটা 
৬. পালং শাখ কুচি কুচি করে কাটা 
৭. নুন - আন্দাজমত 
৮. মরিচ গুঁড়ো 
৯. রসুন গুঁড়ো পাউডার
১০. দুধ 


প্রণালী :

চাকা করে কাটা আলুর মধ্যে নুন মরিচ অলিভ অয়েল মাখিয়ে নিতে হবে। কনভেনশনাল ওভেন সেফ পাত্রের ধার ধরে আলু গুলো সারি সারি সাজিয়ে নিতে হবে মনে যেন সেটা বেক করলে একটা আলুর থালা হয়ে যায়। ৪০০ ডিগ্রি ফেরেনহেইট তাপমাত্রায় 
আলু সমেত এই পাত্র টিকে ১৫ -২০ মিন বেক করতে হবে। একটা পাত্রে ৪ তে ডিম্ ফেটিয়ে তার মধ্যে অলিভ অয়েল , পেঁয়াজ, পেপার , পালং শাক , নুন, মরিচ,রসুন গুঁড়ো ও দুধ সব ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। ওভেন থেকে বেক হওয়া আলুর থালা বের করে তার মধ্যে এই মিশ্রণ ঢেলে দিতে হবে। আরো ৩০ মিন বেক করতে হবে ৩৫০ ডিগ্রী ফেরেনহেইট এ। কিশ তৈরী। 

মজার ব্যাপার হল এর আগে বহুবার এদেশে রেস্তোরাঁয়  অনেকবার কিশ খেয়েছি  তবে বাড়ির কিশের  স্বাদই আলাদা! আগেই বলেছি এতে চিজ দেওয়া হয়নি,খেতে  সুস্বাদু হলেও সমস্যা একটাই ছিল - বেকিং ট্রে থেকে বের করার সময় আলুর থালা সহজে ট্রে থেকে উঠে আসছিলো না। যাদের চিজ খেলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গিল্ট ফিলিং হবেনা তারা অবশ্যই চিজ অ্যাড করো। 




Monday, November 13, 2017

||যাদুকরের খেলা ||


প্রতি বছরের মত এবছরেও অফিসে আমার এক সহকর্মী স্বভাব বশত তার গাছে ফোটা একখানি পেওনি ফুল কোনো এক গ্রীষ্মকালের শুরুর দিকের সকালে আমার ডেস্কে রেখে গেছিল। ডেস্ক আলো করে যেমন তার উজ্জ্বল গোলাপি রং তেমনি সুন্দর হালকা মিষ্টি গন্ধ। সেই গন্ধে মাতোয়ারা আমি, আমার ডেস্ক, আমার ল্যাপটপ আর আমার সব ইন্দ্রিয় ! বেলা বাড়তেই দেখলাম হালকা গোলাপি রঙখানি গাঢ় গোলাপিতে পরিণত হচ্ছে। আমার প্রলাপের সাথে যাদের পরিচয় আছে তারা এতদিনে জেনে গেছেন আমি ম্যাজিক শব্দ "নস্টালজিয়া"র ওপর ভর করে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রে দিনগত পাপক্ষয় করছি ! ওই নস্টালজিয়াই রোজ সকালে মনে করায় আমি দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে। পেওনির গন্ধে তখন কাজ আর চোখ দুই কপালে উঠলো ! আমার পাঁচ ইন্দ্রিয়ের অবিচ্ছেদ্য চোখ ও নাক গাঁটছড়া বাঁধলো আমার শৈশবের স্মৃতির সাথে। স্মৃতির ডানায় ভর করে পৌঁছলাম আমার দেশের বাড়ি।
আমার দেশের বাড়ি নবদ্বীপে। বাড়িতে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাগানের রানী ছিল এক বিশাল স্থলপদ্ম গাছ। ছিল বলছি কারণ কালের নিয়মে ও বন্যার দাপটে সেই রানী আজ মুখার্জী বাড়ির ইতিহাসে স্থান করেছে। আমরা সবাই আছি, আছে আমাদের বাড়ি, কিন্তু পদ্মগাছ আর নেই। বাড়ির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ সেই স্থলপদ্ম গাছ যার গল্প আজও পাড়ার লোকের মুখে মুখে ফেরে । দিনে ৫০-৭০ টা পর্যন্ত ফুল ফুটতে দেখেছি আমরা সেই গাছে ,কখনো আরো বেশি !! কি তার আয়তন! কি তার শোভা ! কাকিমার রোজ ভোরের কাজ ছিল সেই ফুলের যেন কোনো অযত্ন না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখা। বাড়ির নিত্য পুজোর জন্য রোজ লগা দিয়ে ফুল পাড়া হত । এক অদ্ভত অজানা রহস্য লুকোনো থাকে স্থলপদ্মফুলের ভেতরে । ভোরবেলার রং দুধ সাদা,বেলা বাড়তেই সেই ফুল হালকা গোলাপি, দুপুরে গাঢ় গোলাপি আর সন্ধ্যেবেলা লাল ! কাকা স্নান পর্ব সেরে সারা বাড়ি, ঠাকুরঘর, দালান ঘুরে ঘুরে ঠাকুমা ঠাকুরদা এবং সব ঠাকুর দেবতাকে সদ্য ফোঁটা সাদা স্থলপদ্ম ফুল দিয়ে সাজাতেন। সন্ধ্যেবেলা কাকিমার শাঁখের আওয়াজ আর ঘরের কোনের ধুপ ধুনোর গন্ধে আমরা যখন কপালে হাত ছোঁয়াচ্ছি তখন সাদা স্থলপদ্ম গুলো গোধূলির আকাশ থেকে একরাশ গাঢ় লাল রং মেখে পূর্ণতা পেয়েছে। আর আমরা অবাক হয়ে তা দেখেছি। দৃঢ় ধারণা ছিল কাকা কাকিমার কাছে রূপকথার যাদুকাঠি আছে,তার ছোঁয়ায় ফুলের রং বদলে যেতে পারে, আমরা গোটা পরিবার এক সূত্রে বাঁধা পড়তে পারি আমাদের দেশের বাড়িতে, ঠিক যেন সেই স্থলপদ্ম দিয়ে গাঁথা একটি মালা, আর সেই যাদুকাঠি ভোরের রুপোলি আলোকে বদলে দিতে পারে সাঁঝবাতির খাঁটি সোনা রঙের আলোয় !
গত সপ্তাহে এই দিনে নবদ্বীপে মুখুজ্যে বাড়িতে চাঁদের হাট বসেছিলো রাশ পূর্ণিমা উপলক্ষে। নিয়মমতো সকালের পুজো সেরেছে কাকা,সন্ধ্যেবেলা গেরস্তের মঙ্গল কামনা করে শাঁখে ফুঁ দিয়েছে কাকিমা। ঘরে জ্বলেছে সন্ধ্যা প্রদীপ। আর আমি মানসচক্ষে তা দেখেছি নিউ ইয়র্কে বসে। আর পেয়েছি সেই দুই যাদুকরের উষ্ণ ছোঁওয়া। ছবিটি আমার কাকার পুজো করার সময় আমার তোলা কিছুবছর আগে।

Monday, November 6, 2017

|| শুভ বিজয়া ২০১৭ ||

|| শুভ বিজয়া ||

সবাইকে জানাই শুভ বিজয়া। বড়দের প্রনাম আর ছোটদের স্নেহাশিস। বিজয়ার পালা- " নীলকণ্ঠ উধাও" শীঘ্র আসছে।




|| শুভ মহানবমী ২০১৭।।


|| শুভ মহানবমী ।।

মন খারাপ শুরু হয়েছে কি ? মার সাথে সাথে তার সকল সাঙ্গপাঙ্গর মুখগুলো বড় বিষাদ মাখা মনে হয় নবমীর রাতে? আমার তো মনে হয়। কারণ ? সেতো ইয়া বড় একখানা ফর্দ। সবাই সবার মতো করে ফর্দটা সাজিয়ে নেবার সাথে সাথে আলোর স্রোতে গা ভাসিয়ে দাও। ২০১৫ সালে দেশে পুজোয় গেছিলাম। সেই সময়ে তোলা পুজোর কোনো এক সকালে তোলা ছবি। আমার শহর তখন ক্লান্ত আগের রাতে আলোর জোয়ারে গা ভাসিয়ে। ক্যামেরা কাঁধে বালিগঞ্জের কোনো এক মায়ের সংসারে উঁকি দিয়েছিলাম আমরা । দিনটাকি নবমী ছিল? তাই বুঝি মার্ মুখখানিও বিষন্ন। 

সবাই কে জানাই মহানবমীর শুভেচ্ছা।


।।শুভ মহাষ্টমী ২০১৭।।

।।শুভ মহাষ্টমী ।।

অষ্টমী মানেই কেমন যেন সাজু গুজুর ক্লাইম্যাক্স। নিজের সাজ, প্রকৃতির সাজ আর সর্বোপরি মনের সাজ - 
ভোরের আলোয় জানলার ধারে ভিজে চুলে আয়নায় তাকানোর নাম অষ্টমী ,
দিদার দেওয়া কাজল লতা থেকে কাজল পড়ার নাম অষ্টমী ,
রুপোর কাঠি দিয়ে কপালে যত্ন করে টিপের ফোঁটা দেবার নাম অষ্টমী ,
শাড়ি পরে অঞ্জলি দেবার নাম অষ্টমী ,
পায়ের আলতা পিঠের চাবির গোছা খোলা চুলে গোলাপের গন্ধের নাম অষ্টমী ,
প্যান্ডেলে প্রথম চোখাচোখি হবার নাম অষ্টমী ,
অঞ্জলি দিয়ে ফিরতি পথে আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে তাকানোর নাম অষ্টমী , 
আয়নার মতো চকচকে আকাশে ভেসে যাওয়া মেঘ দেখে একটু মন কেমন করার নাম অষ্টমী , 
সব থেকে জোরালো ঢাকের বোল যেদিন তার নাম অষ্টমী ,
কালো দীঘির জলে পদ্মকোলির হাই তোলার নাম অষ্টমী ,
অলস ছাদে শিউলির চুপি চুপি ঝরে পড়ার নাম অষ্টমী ,
নীল কাজল পড়া অপরাজিতা ফুল দিয়ে ডালি সাজানোর নাম অষ্টমী ,
অশুভ শক্তি দমনের নাম অষ্টমী ,
মায়ের অস্ত্র পুজোর দিনের নাম অষ্টমী ।।
আশা রাখি কেবল মাত্র মৃন্ময়ীর আরাধনার মধ্যেই মায়ের পুজো গণ্ডিবন্ধ থাকবেনা। 
সবাই কে জানাই মহাষ্টমীর শুভেচ্ছা।

​।।শুভ ​মহাসপ্তমী ২০১৭।।


।।শুভ ​মহাসপ্তমী ।।


গতকাল অফিস থেকে বেরোনোর সময় এলিভেটরে করে নিচে নামছি হঠাৎ হাতের আংটিতে এলিভেটরের আলো পড়তেই কেমন ঝলমল করে উঠলো। ঠিক যেন দূর্গাপুজোর প্যান্ডেলের আলো। একরাশ অন্ধকার দূর করা আলো । কি ভীষন যাদু ওই আলোতে - আমার শহরটাকে কিছুদিনের জন্য পৃথিবীর সেরা স্কাই লাইন করে তুলতে পারে ওই আলো ! এমনিতেই সকাল থেকে কানে ঢাকের আওয়াজ বেজেই চলেছে, দূরে কোনো গাড়ীর হর্ন শুনে মনে হচ্ছে শাঁখ বাজছে। তার ওপর আলোর ছটায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলেজেন্স থিমের হলিউড মুভি স্টাইল এ নিউ ইয়র্কে বসে চোখ বন্ধ করে সোজা ম্যাডক্স স্কয়ারে পৌঁছে গেলাম !! হোয়াটস্যাপ ফেইসবুককে অনেক ধন্যবাদ দুধের স্বাদ ঘোলে মিটছে। বেশ বুঝতে পারছি কলকাতায় উৎসব জমে উঠেছে। কালিকাপ্রসাদ ও দোঁহার এর "গৌরী এলো দেখে যা লো" গানটা শুনলাম। দৃশ্যটা কল্পনা করলে বেশ রূপকথা মনে হয় -" বলদে চড়িয়া শিবে শিঙ্গায় দিলা হাঁক, আরে শিঙ্গা শুনি মর্তেতে বাজিয়ে উঠলো ঢাক "!কল্পনা করে বেশ মজা পেলাম কৈলাশে বসে মহাদেব ঘোষণা করলেন গৌরীর আগমন বার্তা। কালিকাপ্রসাদ এর এই হাসিমুখের মতো কৈলাশের আনাচে কানাচে আমাদের চিরদিনের মতো হারিয়ে যাওয়া আত্মীয় পরিজনেরাও শিবের শিঙ্গায় মালুম পেয়ে হেসে তাকিয়েছেন আমাদের দিকে , গৌরিকে পাঠিয়েছেন মর্তে আমাদের ভবন আলো করার জন্য । মজার গানখানি কাল থেকে কতবার শুনেছি মনে নেই - ইনফাইনাইট লুপে চলছে। যারা আগে শুনেছ তারা আবার শুনো। যারা আগে শোনোনি তারা বেশি করে শুনো  শুভ ​মহাসপ্তমী। 

"গৌরী এলো..." -
https://www.youtube.com/watch?v=tVj93-Aho2s

||শুভ মহাষষ্ঠী ২০১৭ ||



||শুভ মহাষষ্ঠী||

বিদেশে বসে অফিসের কাজে একটুও মন বসছেনা। সারাদিন ধরে কলকাতার ঠাকুর ও মণ্ডপের ছবি পেয়েছি মোবাইলে। মাথার মধ্যে পুজোর গল্পের আনাগোনা সপ্তাহ শুরুর ক্লান্তি দূর করেছে। ​শশীবাবুর তুলির টানে মায়ের চক্ষুদান পর্ব নিশ্চয়ই শেষ। হাতে হ্যান্ডিক্যাম নিয়ে কোনো এক জয় কোনো বনেদি বাড়ির সাদা কালো খোপ কাটা মেঝেতে এক্কা দোক্কা খেলতে খেলতে পারিবারিক ফটোশুটের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তুতো ভাই বোনেদের খুঁনসুটি একপাল রঙিন প্রজাপতির মতো পাখনা মেলে বাড়ির নাটমন্দিরে ঘুরপাক খাচ্ছে , তাদের হাসি ঠাট্টায় গাঁথা মালা যেন নাটমন্দিরের থামের গায়ে জড়ানো গাদার মালা। পরিবারের সকলের সম্মিলিত হাসি যেন আলোর ফোয়ারা। না না এই দৃশ্যটা বরং অষ্টমীর জন্য তোলা থাক। আজ বরং প্ল্যান প্রোগ্রামের দিন - কবে কোনদিকে ঠাকুর দেখতে বেরোবো তার প্ল্যান। তবে বাড়ির পুজো আর তাকে কেন্দ্র করে আড্ডা কিন্তু প্রায়োরিটি ওয়ান ! মনে আছে ছোটবেলায় একটা দূর্গা পুজোর পর বড়জেঠুর বাড়িতে মিটিং হয়েছিল। বাবারা সাত ভাই দুই বোন ও তাদের পরিবার নিয়ে। মিটিংয়ের এজেন্ডা ছিল মুখার্জি বাড়ির পুজো শুরু করা দেশের বাড়ি নবদ্বীপে। আমরা এই প্রজন্ম এখনো আশা করে বসে আছি অন্দরমহলের লম্বা সবজে বারান্দায় পুজোর সকালের প্রথম নিমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি শরতের সোনালী রোদ এর সাথে লুকোচুরি খেলবো বলে, সাদা কালো খোপ কাটা মেঝেতে আনাড়ি হাতে আলতা পড়া পায়ে নুপুরের আওয়াজ তুলে বোনেদের ছুটোছুটি জানান দেবে অন্দরমহলের হৃদস্পন্দন। মা কাকিমা জেঠিমাদের লাল পেড়ে একরকম দেখতে শাড়ি হবে অন্দরমহল থেকে নাটমন্দির যাবার পথে আকাশের দিকে লাজুক চোখে চেয়ে থাকা খোলা বারান্দার শোভা। দৃশ্যটা কোনো রুপোলি পর্দার না, সম্পূর্ণ মনের আয়নার , যে আয়না এখন শরতের রোদের আলোয় ঝলমলে। 
সবার পুজো আনন্দে ভরে উঠুক। শুভ মহাষষ্ঠী।

ভোগের খিচুড়ি

বহুদিনের চেষ্টায় অবশেষে ভোগের খিচুড়ির স্বাদের সামান্য কাছাকাছি পৌঁছতে পেড়েছি! গতকাল সারা ঘরময় ধূনোর গন্ধে বেশ পুজো পুজো আমেজ।ঘরে তখন মালক্ষী, আমি আর ধূনো থেকে কুণ্ডলী পাকানো গাঢ় সাদা ধোয়া।পেতলের থালায় যত্ন করে রাখা ভোগ, ধুনো, ফুল, ফল, ছোট্ট পেতলের ঘণ্টা,ঘরের কোণে টুনি আলোর মালা জন্ম দিল এক অদ্ভুত পরিবেশের। ধূনোর ধোয়া আমাকে কেন্দ্র করে পাকিয়ে পাকিয়ে ওপর দিকে মুখ করে ঘরের মধ্যে স্মৃতির আলপনা একে চলেছে। আমি আলপনার মাঝে দাঁড়ানো ক্ষুধিত পাষাণ! মুখুজ্যে বাড়ীর একঘর জোরা আত্মিয় স্বজন, হাসি ঠাট্টা, পুস্পাঞ্জলি মন্ত্র তখন আমার সামনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাইরের মিশমিশে কালো আকাশে তখন বিশাল বড় রূপো রঙের চাঁদ ধপধপে সাদা জোছানার শাল গায়ে বাড়ি বাড়ি খবর নিচ্ছে। উঁকি মেরে আমার ঘরের সেই ক্ষুধিত পাষাণের গল্পখানির নিরব দর্শক সে। দূরে কোথাও শঁাখ বাজল কি.....?!! চাল ডাল তেল ঘি হলুদ নুন মিষ্টি মায়া মমতা স্নেহ স্মৃতি মেশানো অপটু হাতের রান্না তখন কোজাগরীর ভোগের খিচুড়ি!