Thursday, August 8, 2024

|| ধনঞ্জয়ের ফ্রাইড রাইস ||

খুব ছোট বেলায় দূরদর্শনে একটা বাংলা ছবি দেখেছিলাম, প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক শ্রী মৃনাল সেন এর "নীল আকাশের নীচে"। তখন মৃনাল সেন কে তা চিনতাম না। তবে যেটা মনে পরে এই ছায়াছবি দেখার পর "চাইনিজ" শব্দটা শিখেছিলাম, চীন বলে একটা দেশ আছে সেটা জেনেছিলাম আর তাদের রকমারি খাবার আছে সেটাও একটু বড়বেলায় টের পেয়েছিলাম। ছায়াছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক "চাইনিস" বা "চাইনিজ" ফেরিওয়ালা , রুপোলি পর্দায় সেই ফেরিওয়ালার ভূমিকায় অভিনয় করেন বাঙালির জনপ্রিয় অভিনেতা শ্রী কালী ব্যানার্জী। আমার কাছে কালী ব্যানার্জি আমার জীবনে দেখা প্রথম চাইনিস!

দেশে থাকা কালীন চাইনিজ খাওয়াটা বেশ যুদ্ধ জয়ের পর ট্রফি হাতে নিলে বা পুজোর প্রথম জামাটা বাবা মা র কাছ থেকে পেলে মনটা যেমন হয় ঠিক তেমন একটা বিশেষ আকর্ষণীয় বিষয় ছিল। বাবা ছোটবেলায় শহরের  নামি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে ইন্দোচাইনিজ খাওয়াতেন। দেশের বাইরে এসে হোমসিক মন সেই ইন্দোচাইনিজ স্বাদ খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে নিজের রান্না ঘরেই সেই স্বাদের জন্ম দিয়ে ফেললো। 


নীল আকাশের নীচে



এহেন ইন্দোচাইনিজ খাবার গল্প ছোটবেলার বিশেষ বিশেষ গল্পের অঙ্গ। ধনঞ্জয়কে সে গল্প বলতেই তার হাতে আবার অন্নপূর্ণার হাতা উঠে এলো, সে তার ছোটবেলার খাওয়া ইন্দোচাইনিজ এর স্বাদ আমাকে বানিয়ে খাওয়াবেই । কলকাতায় চেটে পুটে খাবার পর নিউ ইয়র্কে এসে মাথায় ঘুরতে থাকা সেই ইন্দো চাইনিজের স্বাদ আজ ধনঞ্জয় রপ্ত করে ফেলেছে। এবছরে এই নিয়ে বার দুয়েক এই স্বাদ, গন্ধ রান্নাঘরে ঘোরা ফেরা করেছে, হুবহু সেই গন্ধ , হুবহু সেই স্বাদ। প্রথমবার ছিল বন্ধুদের সাথে পটলাকের জন্য এগ ফ্রাইড রাইস আর দ্বিতীয়বার বাড়িতে হঠাৎ চাইনিজ খাবার ইচ্ছে থেকে এগলেস ভেজিটেবল ফ্রাইড রাইস।  


উপকরণ
 
১. জাসমিন রাইস - ২ কাপ 
২. পেঁয়াজ (সরু লম্বা করে কাটা) - ১ টা বড় 
৩. ম্যাচস্টিক ক্যারোট  - ১ মুঠো 
৪. রঙিন বেল পেপার (সরু লম্বা করে কাটা) - ১ মুঠো 
৫. স্প্রিং ওনিয়ন - ১ মুঠো 
৬. বিন্স  - ১ মুঠো 
৭. ভিনেগার  - স্বাদমতো 
৮. সোয়া সস - স্বাদমতো  
৯. সাদা তেল - ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ 
১০. ডিম - ২ টো 
১১. নুন - স্বাদ মত

প্রণালী 

জাসমিন রাইস ৯০% তৈরী করে জল ঝরিয়ে রেখে দিতে হবে।রাইস তৈরী করার সময় নুন দিতে হবে।সাদা তেলে পেঁয়াজ ভেজে নিতে হবে।  এরপর একই  তেলে বিন্স ও তারপর  ম্যাচস্টিক ক্যারোট ভেজে নিতে হবে। পরবর্তীতে রঙিন বেল পেপার দিয়ে ভাজতে হবে। এরপর সোয়া সস দিয়ে ভাজা'গুলো মাখিয়ে নাড়াতে হবে। সোয়া সস ফুটে গেলে তারপর ভিনেগার দিতে হবে। আগে থেকে করে রাখা জাসমিন রাইস অল্প অল্প করে ভাজা মিশ্রণ এর সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। পুরোটা মিশে গেলে স্প্রিং ওনিয়ন কুচিয়ে ওপরে ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে। 

স্বাদ বা ভ্যারাইটির জন্য এম এস জি (আজিনো মোটো) আর বেবি কর্ন ইচ্ছে হলে দেওয়া যেতে পারে। এগ ফ্রায়েড রাইসে ডিম ভেজে মিশিয়ে নিতে হবে। সোয়া সস এ নুনের পরিমাণ খুব বেশি থাকে, তাই জাসমিন রাইস করার সময় নুন দিতে হবে মনোযোগ সহকারে। 

সাথে চিলি ফিশ বা চিলি চিকেন না খেলে এই রাইসকে যথাযথ সম্মান দেখানো হবেনা।  

ধনঞ্জয়ের ফ্রাইড রাইস



Wednesday, August 7, 2024

।।ফ্রোজেন লেক জর্জ।।

ছোটবেলায় বড়পিসির কাছে গল্প শুনতাম আমার পিসতুতো দাদা (আমাদের পরিবারে ভাইবোনদের মধ্যে সব থেকে বড় দাদা) আমেরিকা থেকে জমে যাওয়া মিশিগান লেকের ছবি পাঠাতো। জমে যাওয়া লেক?!! এতো ঠান্ডা যে অত বড়ো সমুদ্রের মতো লেক পর্যন্ত জমে কাঠ , থুড়ি বরফ।  যাকে এদেশে বসে উইন্টার ওয়ান্ডারল্যান্ড ! শুধু এখানেই শেষ না, জমা লেকের ওপর আইস স্কেটিং, গাড়ি চালানো বা স্লেজ গাড়ি টানা এগুলো আবার আমেরিকানদের উইন্টার ভেকেশনের অবশ্য কর্তব্য ! সে ছবিও দাদা বৌদি বড়পিসিকে পাঠিয়েছিল আর আমরা হাঁ করে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। 

জেনারেল নলেজ বইতে পড়েছি ফ্রোজেন লেকের কথা। ছবিও দেখেছি। কিন্তু ছবি দেখে তো আর পুরো ব্যাপারটা ধারণা করা যায়না। ডিসনির ফ্রোজেন ছায়াছবিটা দেখেছিলাম খোদ হলিউডে বসে, এল ক্যাপিটান থিয়েটারে । অ্যানিমেশন দেখে মনে হয়েছিল কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে সহজ রূপকথা, বেশিরভাগটাই কল্পনার। কিন্তু কল্পনার জন্মও বাস্তব থেকেই হয়। 

২০১৮র গোড়ার দিকেই মালুম পেলাম আমাদের গাড়ির ব্যাটারী এবার দেহ রাখবে। নতুন বছরে গাড়িরও ইচ্ছে হয়েছে নতুন কিছু পাবার। বাড়ির আসে পাশে সব দোকানে ব্যাটারী "আউট অফ স্টক " । খোঁজ খবর নিয়ে ছুটে গেলাম বাড়ি থেকে ৪৫ মিনিট ড্রাইভ করে লেক জর্জের কাছে একটি দোকানে যারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো সেই বহুচর্চিত ও বহুমূল্য ব্যাটারী তারা জোগাড় করে দিতে পারবে। পৌঁছনোর ৫ মিনিট আগেই মোবাইলে দোকান থেকে ফোন পেলাম এই মুহূর্তে তাদের কাছে ব্যাটারী নেই। সকালে ছিল , আমরা পৌঁছতে পৌঁছতে শেষ! ভীষন দুঃখ হল , যতটা না আমাদের নিজেদের জন্য তার থেকে অনেক বেশি গাড়িটার জন্য। মন চাঙ্গা করার জন্য ঠিক করলাম লেক জর্জ গেলে কেমন হয়? কাছেই তো, দেরি কেন ?

এই লেক জর্জে আমরা বহুবার গেছি। সামার বা ফলে।  তবে ভয়াবহ ঠান্ডায় কখনোই না। লেক জর্জ নিউ ইয়র্ক স্টেটের অন্যতম দ্রষ্টব্য। একে কুইন অফ আমেরিকান লেক ও বলা হয়। প্রায় ৩৩ মাইল লম্বা এবং প্রায় ৩ মাইল চওড়া , ২১ - ৬০ মিটার মতো গভীর। চারিদিকে আদিরণদাক পাহাড়ে ঘেরা। সামারে স্টিম বোট চলে প্রায় ছোট খাটো জাহাজের মতো। টুরিস্টদের স্নানের ব্যবস্থায় আলাদা বিচ আছে। আবার তাদের পুষ্যি সারমেয়দের জন্য রয়েছে খেলা করার আলাদা বিচ। লেককে কেন্দ্র করে একটি শহর গড়ে উঠেছে। প্রচুর ভালো ভালো খাওয়া দাওয়ার করার ব্যবস্থা। ভালো ভালো কাফে ,বড় বড় রেস্তোরাঁ, থাকার জন্য লেক ফেসিং রিসোর্ট, এছাড়া অমুসমেন্ট পার্ক , হরর হাউস , শপিং মল সব কিছুর ব্যবস্থা আছে। বলা বাহুল্য সামারে উইকেন্ড ট্রিপের জন্য একদম যাকে বলে আইডিয়াল স্পট ! পাশেই প্রসপেক্ট মাউন্টেন।  এর  মাথায় চড়ে যতদূর পর্যন্ত চোখ যায় পাহাড়ে ঘেরা লেক জর্জ। তার সাথে তিনটি স্টেট্ দেখা যায় - নিউ ইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস  আর ভারমোন্ট। বোঝাই যাচ্ছে পিক টুরিস্ট সিসিনে কিরকম ভিড় হতে পারে। প্রসপেক্ট মাউন্টেন এর মাথায় চড়ে লেকের দিকে তাকালেই নৈনিতালের কথা মনে হয়। 

কিন্তু একি ? সেদিনের লেক জর্জ তো একেবারে ফ্রোজেন সিনেমার রূপকথার রাজ্য ! একেবারে বরফে ঢাকা। চারিদিক সাদা। শুধু তাইনা যে লেকে স্টিম বোট চলে সেই লেকে দু চারজন মানুষ স্লেজ গাড়ি নিয়ে হাটছে ! একটি দম্পতি স্নো স্কুটারও  চালাচ্ছে লেকের ওপর। সেদিন নিউ ইয়র্কে রেকর্ড ঠান্ডা। আমাদের চেনা জানা সবাই বাড়ির মধ্যে হয় লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছে না হয় টিভিতে জমাটি মুভি চালিয়ে কফিতে চুমুক দিচ্ছে। আর আমরা দুজন মাইনাস ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে বরফের রাজ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খচাখচ ছবি তুলছি। দাদার পাঠানো ছোটবেলার সেই ছবি বা বড়পিসির কাছে শোনা গল্পের সেই ছবির সাথে আমাদের তোলা সে ছবির বিশেষ পার্থক্য কই ?!



Thursday, June 4, 2020

।।লকডাউন ডায়েরি - আমি চঞ্চল হে আমি সুদুরের পিয়াসি ।।

লকডাউনের ডাইরির পাতায় নতুন সংযোজন ছিল ৩০শে মে শনিবারের ভারত আর মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্র ব্যাপী আমাদের পারিবারিক  'মানস ভ্রমণ' অনলাইন আড্ডা । মানুষের সহজাত অভ্যাস গুলির অন্যতম  অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনা , অদেখাকে দেখা। আর এই অভ্যাসের খিদে গুলি যাদের মধ্যে প্রবল সেই রকম কিছু মানুষ একত্রিত হয়েছিলাম গতকাল। উদ্যেশ্য ছিল আমাদের বয়জ্যেষ্ঠ মানুষদের বিশাল সমুদ্রর সমান ভ্রমণের সম্ভার থেকে একফোঁটা জল সংগ্রহ করার প্রচেষ্টা। আমরা নতুন প্রজন্ম তাদের পথের পথিক , আমরাও পিছিয়ে নেই।  তাই নতুন প্রজন্ম থেকেও সমান উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে আমাদের অভিজ্ঞতার আদান প্রদান ঘটল।  অনলাইন আড্ডার উদ্দেশ্য মহাসমারোহে সফল হয়েছে। প্রায় একমাসের প্ল্যানিং পর আড্ডার  দিনক্ষণ ঠিক হলো । বক্তারা সবাই তৈরী হলেন আর তার সাথে সাথে  মপমু তৈরি করে ফেললো আড্ডার ফ্লায়ার।    

মানস ভ্রমণ অনলাইন আড্ডায়  অঙশগ্রহনে ছিলেন - রনামু , উসে, চামু এবং ইমু । সঞ্চালনায় মমু । শ্রোতা ও দর্শকের ভূমিকায় লোমু, বাসে, মপমু , শুসে । 

আড্ডা শুরু হয় রনামুর উত্তর পূর্ব ভারতের অভিজ্ঞতা দিয়ে।  কর্মসূত্রে  রনামু প্রায় দীর্ঘ ৫ বছর  উত্তর পূর্ব ভারতে থেকেছেন। ঘুরতে হয়েছে প্রায় সবকটি রাজ্য। উজাড় করে দিলেন তাঁর কিছু অভিজ্ঞতা। যাত্রা শুরু হল অসম এর চা বাগান থেকে ব্রহ্মাপূত্র নদ, ফেরি ঘাট ,পাহাড়, গুয়াহাটি, কোহিমার বিখ্যাত পর্বতমালা, মক্কচং এবং সবশেষে মনিপুরের মংপু।  ছোটবেলার একাংশ আয়নার মতো দেখলাম রনামুর উপস্থাপনায়। শেষ চমক রনামুর রোমহর্ষক অনৈসর্গিক অভিজ্ঞতার সামান্য ঝলক পেলাম সকলে। শেষ হয়েও যেন শেষ হলনা, রবিঠাকুরের ছোট গল্পের মতো !

পরবর্তী বক্তা চামু । দীর্ঘদিন নিজের জন্মস্থান ও নিজের প্রিয়মানুষগুলোকে ছেড়ে কর্মসূত্রে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকতে হলে সাধারণ ভাবেই নিজের শহরটাই প্রিয় হতে বাধ্য। চামুর উপস্থাপনায় শুরু থেকে শেষ ভীষণ ভাবে নস্টালজিক। কারণ কলকাতা। শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিলো কলকাতার গলি গুলো পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এবং বাঙালিদের চির স্মরণীয় ও চিরবরণীও সবাইকে ছুঁয়ে গেছে চামুর উপস্থাপনা । শেষে পাড়ার আলোর চাঁদোয়ার ছবিখানি সত্যি মনে করিয়ে দিলো যেন বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে আছি। 

আড্ডার তৃতীয বক্তা ইমু । ইমুর চোখ দিয়ে আমরা বিষ্ণুপুর ভ্রমণ সারলাম। বিষ্ণুপুরের অসংখ্য মন্দির , টেরাকোটার কাজ, মন্দিরের গায়ে খোদাই করা প্রাচীন শিল্পীদের হাতে তৈরী অভুতপূর্ব কারুকার্য , মন্দিরের স্থাপত্য সব  দেখে মনে হচ্ছিল ১৭০০ শতাব্দীতে কোনো মন্দিরে দাঁড়িয়ে বিষ্ণুপুরী ঘরানায় রাধামাধবের কীর্তন শুনছি। ইমু শেষ করল এই বলে যে বিষ্ণুপুরের প্রায় সব রান্নায় পোস্ত দেওয়ায় হয় । পোস্ত আর ভ্রমণ প্রিয় বাঙালির স্বর্গ মনে হল বাঁকুড়ার লালমাটির শিল্পকর্মকান্ড কে ।

আড্ডার সর্বশেষ বক্তা উসে। উসের পায়ের তলায় শর্ষে ।  উপস্থাপনায় তারই ঝলক । কেদারনাথের সেকাল ও একাল, বদ্রীনাথ ও রুদ্রনাথের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ছবির  সাথে সাথে আমরা প্রত্যেকে মানসভ্রমণ করলাম।  ট্রেকিঙের ছবি দেখে মনে হচ্ছিলো এখুনি বুট টা গলিয়ে স্যাক তা পিঠে ঝুলিয়েনি । কেদারনাথের সেকাল একাল এর ছবি দেখে কোথায় যেন মন হল আমাদের সাথে সাথে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অনেককিছু হাড়িয়ে ফেলছে। মানুষের লোভই হয়তো এর কারণ। উসের উপস্থাপনার উপরি পাওনা জোরদার ভ্রমণ প্লানের একঝলক  - হাতে আঁকা মানচিত্র ! পঞ্চকেদারের তিন কেদারের ঝটিকা সফর দিয়ে আমাদের প্রথম অনলাইন ভ্রমণ আড্ডা পর্ব শেষ হল। 

মানস ভ্রমণ আড্ডা থেকে পরম প্রাপ্তি ভ্রমনের অভিজ্ঞতা শোনা আর আগামী দিনের দিকে চেয়ে থাকার জন্য আলোর বিন্দুর হদিশ পাওয়া । কথায় আছে প্রত্যেক মানুষের একটি করে তৃতীয় নয়ন থাকে, লুকোনো । বিশেষ কারণে সেটা ব্যবহার করা হয়।মানস ভ্রমণ আড্ডায় আমাদের সবার সেই তৃতীয় নয়ন একসাথে কাজ করেছে। 

শনিবারের উপস্থাপনার সুন্দর মুহূর্ত গুলো থেকে কিছু ছবি রইলো নীচে। পরবর্তী সভার আয়োজনের কাজে লেগে পড়তে হবে।

চরৈবেতি !

 
 মপমুর   ফ্লায়ার   



রনামুর উপস্থাপনা থেকে 



চামুর  উপস্থাপনা থেকে



ইমুর  উপস্থাপনা থেকে



উসের   উপস্থাপনা থেকে







Saturday, January 6, 2018

||মামমামের মশলা মুড়ি||

ছেলেবেলায় নববর্ষ দিনটা ছিল বিশেষ আনন্দের, সেইদিনটা পড়াশোনা থেকে ছুটি।নবদ্বীপের দেশের বাড়িতে সবাই জমায়েত হতাম ,বুড়োশিবতলার মেলা জুড়ে আমাদের ভাইবোনদের অজস্র কৌতূহল। বুড়োশিবের বিয়ে, নীল পুজো ততদিনে হয়ে গিয়েছে ,মেলার পুতুল ,পিঠে লোহার  আংটা পরে কোনো এক বলশালী মানুষের চড়কিপাক, কানের কাছে বাঁশিওয়ালার বাঁশির শব্দ ,পায়ে হেঁটে ভিড় ঠেলে এগলি ওগলি দিয়ে এবাড়ির উঠোন ওবাড়ির দালান পেড়িয়ে কোথাও প্রিয়জনের হাতের পরম যত্নে তৈরী  আচার চুরি করে খাওয়া কোথাও মিষ্টির বাক্স খুলে ভাগ করে নেওয়া নানান আকারে গড়া এক গুচ্ছ ছেলেবেলা। আর পরিচিত মানুষদের সাথে  দেখা হলেই হয়ে প্রণাম নয় শুভেচ্ছা বিনিময়। সন্ধ্যেবেলায় পরিবারের সকলে মিলে আড্ডা গান বাজনা খাওয়া দাওয়া, ন'কাকিমার রান্নাঘরে তদারকি - বাড়ি কারো যেন অযত্ন না হয়,ঠাকুমার পরম যত্নের রান্নাঘরের প্রতিটি কোণে আজও সমান সেই যত্নের ছোঁয়া । আমরা মজা করে বলতাম দ্রৌপদীর হাঁড়ি , সবার জন্য কিছু না কিছু সব সময় প্রস্তুত। বাবা কাকা জেঠাদের সমবেত কণ্ঠে গান, মা কাকিমা জেঠিমাদেরদের গল্প, পিসিদের  কাছে বাবাদের ছোটবেলার গল্প শোনা , এরই মধ্যে  আসর মাতিয়ে রাখতে ঠাকুরের আসনের টাটকা জুঁই ফুলের মালা বা ঠাকুমা ঠাকুরদার ছবিতে যত্নে পড়ানো রজনীগন্ধার মালা জানান দিত পুরোনোর দিন শেষ। বাড়ির উঠোনে ঠাকুরদার নিজে হাতে লাগানো আম গাছ মহীরুহে পরিণত হয়েছিল। পয়লা বৈশাখের দিন সন্ধ্যের আসরে সেই আম গাছের ফাঁক দিয়ে বিগত বসন্তের শিরশিরে বা আগামী বৈশাখের হালকা হাওয়ার আনাগোনায় এক অদ্ভুত শব্দের সৃষ্টি হতো। জানান দিত ঠাকুরদার আম গাছ ও সামিল আমাদের সেই আসরে। নতুন পোশাকের গন্ধের সাথে মিলে মিশে একাকার হতো পরিবারের আনন্দের গন্ধখানি। বিকেলের আড্ডা বা গান বাজনার আসরে রাধাবাজারের সিঙ্গারা হত(এবং এখনো হয়)  ষ্টার অফ দা শো। আর তার সাথে মামমামের মাখা মশলা মুড়ি।মামমাম আমার মেজো জেঠি। মামমামের মশলা মুড়ি অবিকল লোকাল ট্রেনের মুড়ি মাখার মতো খেতে। কাঁচা সর্ষের তেল,কাঁচা পেঁয়াজ কুচি, লঙ্কা কুচি, আদা কুচি, আলু সেদ্ধ, সেদ্ধ ছোলা,ঝাল চানাচুর, টমেটো কুচি, ধনেপাতা কুচি সব কিছু দিয়ে মাখা মশলা মুড়ি। মুড়ি মাখা হলে এলুমিনিয়ামের বড় থালায় করে সে মুড়ি নিয়ে বসা হয় আড্ডা চক্রের ঠিক মাঝখানে, ন' কাকিমার  খাটে। আর উত্তেজনার বসে সবাই  মুঠো মুঠো মুড়ি তুলে নিতাম আর তার সাথে এক কামড় করে সিঙ্গারা। সারা ঘর জুড়ে তখন পেঁয়াজ বা চানাচুর চেবানোর কোটর মোটর শব্দ ! প্রথমবার মশলা মুড়ি মুখে ঢুকলেই গালের আশপাশ থেকে তীব্র বেগে স্যালিভা ছুটে বেড়িয়ে আসার সাথে সাথে কাঁচা পেঁয়াজ, লঙ্কা আর  সর্ষের তেলের গন্ধ মিশে মাথার মধ্যে একটা সুন্দর ছবি ঘোরা ফেরা করত। ঠিক যেন লোকাল ট্রেনে করে সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে রেলগাড়ি চেপে বেড়াতে যাচ্ছি আর হাতে কাগজের  ঠোঙায় ভরা ট্রেনের বিখ্যাত "মস্সলা মুড়ি", স্বাদ তা এতটাই কাছাকাছি ! ছোট পিসি সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে অবিরাম চায়ের সাপ্লাই দিয়ে যেত (এখনো দেয় ).রান্না ঘর থেকে। মজার ব্যাপার হলো এই এক থালা থেকে মোটামুটি গোটা বাড়ির লোকেরা মুড়ি খেতে জড়ো হত এবং মুড়ি মাখা তলানিতে গিয়ে ঠেকলে তারপর কারকারী করে খাওয়া দিয়ে মুড়ি পর্ব শেষ হত। 

আজও আছে সেই আড্ডার গন্ধ - তফাৎ এইটুকুই সে মিষ্টি গন্ধ এখন শুধুমাত্র দেশের বাড়ির ন'কাকিমার খাটের আড্ডায় আর সীমিত নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবী জুড়ে - তার নানান প্রান্তে, যেখানে যেখানে ছিটকে পড়েছে পরিবারের মানুষগুলো। আর সাথে ছড়িয়ে পড়েছে মামমামের মুড়ি মাখা রেসিপি।একেই বোধ হয় নস্টালজিয়া বলে।



আমেরিকায় বেড়াতে এসে জেঠিমা আমাদের বাড়ি মশলা মুড়ি বানিয়ে খাইয়েছে। তার ছবি তুলে রেখেছিলাম মাঝে মাঝে অন্তত দেখে আনন্দ পাবার জন্য। 


Monday, January 1, 2018

।।ছবিতে ২০১৭ ভ্রমণপর্ব ।।


২০১৮ র প্রথম পোস্টে ছবিতে ২০১৭ র ভ্রমণপর্ব গুলো সাজালাম।
********************************************************************

জানুয়ারী :পুরী ,ওড়িশা ,ভারতবর্ষ 



ফেব্রুয়ারী দেশ থেকে ফিরে এসে দুঃখ দূর করতে বেড়ানো থেকে বিরতি 


মার্চ :বস্টন ,ম্যাসাচুসেটস 

 এপ্রিল : থ্যাচার পার্ক , নিউ ইয়র্ক 


মে :পেন্সাকোলা, ফ্লোরিডা 


রভিংটন, নিউ ইয়র্ক 





 এল্মসফোর্ড ,নিউ ইয়র্ক 



জুন :নায়াগ্রা, নিউ ইয়র্ক 


ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া 




জুলাই :ইথাকা, নিউ ইয়র্ক 



ম্যানহাটান, নিউ ইয়র্ক 


আকাডিয়া ন্যাশনাল পার্ক, মেইন  





অগাস্ট :ম্যানহাটান, নিউ ইয়র্ক






স্মোকিস ন্যাশনাল পার্ক, সাউথ ক্যারোলিনা 





সেপ্টেম্বর:মন্ট্রিয়েল, কানাডা 





লেক জর্জ, নিউ ইয়র্ক 



অক্টোবর:আলগোনকুইন প্রভিন্সিয়াল পার্ক, কানাডা 




লেক সাম্প্লেন, নিউ ইয়র্ক 








নভেম্বর: ক্রোটন -ওন-হাডসন, নিউ ইয়র্ক



ভ্যালি অফ ফায়ার স্টেট পার্ক, নেভাদা 


গ্রান্ড ক্যানিয়ন, নর্থ রিম, আরিজোনা



জিওন ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্ক, উটাহ 


ব্রাইস ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্ক, উটাহ



ক্যাপিটল রীফ  ন্যাশনাল পার্ক,উটাহ




ডেড হর্স পয়েন্ট স্টেট পার্ক ,উটাহ


মেসা  আর্চ,ক্যানিয়নল্যান্ডস ন্যাশনাল পার্ক,উটাহ 



আইল্যান্ড ইন দা স্কাই, ক্যানিয়নল্যান্ডস ন্যাশনাল পার্ক, উটাহ




ডিসেম্বর: ম্যানহাটান, নিউ ইয়র্ক 




আপাতত বাড়ি যাবার প্রস্তুতি ।