খুব ছোট বেলায় দূরদর্শনে একটা বাংলা ছবি দেখেছিলাম, প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক শ্রী মৃনাল সেন এর "নীল আকাশের নীচে"। তখন মৃনাল সেন কে তা চিনতাম না। তবে যেটা মনে পরে এই ছায়াছবি দেখার পর "চাইনিজ" শব্দটা শিখেছিলাম, চীন বলে একটা দেশ আছে সেটা জেনেছিলাম আর তাদের রকমারি খাবার আছে সেটাও একটু বড়বেলায় টের পেয়েছিলাম। ছায়াছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক "চাইনিস" বা "চাইনিজ" ফেরিওয়ালা
, রুপোলি পর্দায় সেই ফেরিওয়ালার ভূমিকায় অভিনয় করেন বাঙালির জনপ্রিয় অভিনেতা শ্রী কালী
ব্যানার্জী। আমার কাছে কালী ব্যানার্জি আমার জীবনে দেখা প্রথম চাইনিস!
দেশে থাকা কালীন চাইনিজ খাওয়াটা বেশ যুদ্ধ জয়ের পর ট্রফি হাতে নিলে বা পুজোর প্রথম জামাটা বাবা মা র কাছ থেকে পেলে মনটা যেমন হয় ঠিক তেমন একটা বিশেষ আকর্ষণীয় বিষয় ছিল। বাবা ছোটবেলায় শহরের নামি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে ইন্দোচাইনিজ খাওয়াতেন। দেশের বাইরে এসে হোমসিক মন সেই ইন্দোচাইনিজ স্বাদ খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে নিজের রান্না ঘরেই সেই স্বাদের জন্ম দিয়ে ফেললো।
 |
| নীল আকাশের নীচে |
এহেন ইন্দোচাইনিজ খাবার গল্প ছোটবেলার বিশেষ বিশেষ গল্পের অঙ্গ। ধনঞ্জয়কে সে গল্প বলতেই তার হাতে আবার অন্নপূর্ণার হাতা উঠে এলো, সে তার ছোটবেলার খাওয়া ইন্দোচাইনিজ এর স্বাদ আমাকে বানিয়ে খাওয়াবেই । কলকাতায় চেটে পুটে খাবার পর নিউ ইয়র্কে এসে মাথায় ঘুরতে থাকা সেই ইন্দো চাইনিজের স্বাদ আজ ধনঞ্জয় রপ্ত করে ফেলেছে। এবছরে এই নিয়ে বার দুয়েক এই স্বাদ, গন্ধ রান্নাঘরে ঘোরা ফেরা করেছে, হুবহু সেই গন্ধ , হুবহু সেই স্বাদ। প্রথমবার ছিল বন্ধুদের সাথে পটলাকের জন্য এগ ফ্রাইড রাইস আর দ্বিতীয়বার বাড়িতে হঠাৎ চাইনিজ খাবার ইচ্ছে থেকে এগলেস ভেজিটেবল ফ্রাইড রাইস।
উপকরণ
১. জাসমিন রাইস - ২ কাপ
২. পেঁয়াজ (সরু লম্বা করে কাটা) - ১ টা বড়
৩. ম্যাচস্টিক ক্যারোট - ১ মুঠো
৪. রঙিন বেল পেপার (সরু লম্বা করে কাটা) - ১ মুঠো
৫. স্প্রিং ওনিয়ন - ১ মুঠো
৬. বিন্স - ১ মুঠো
৭. ভিনেগার - স্বাদমতো
৮. সোয়া সস - স্বাদমতো
৯. সাদা তেল - ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ
১০. ডিম - ২ টো
১১. নুন - স্বাদ মত
প্রণালী
জাসমিন রাইস ৯০% তৈরী করে জল ঝরিয়ে রেখে দিতে হবে।রাইস তৈরী করার সময় নুন দিতে হবে।সাদা তেলে পেঁয়াজ ভেজে নিতে হবে। এরপর একই তেলে বিন্স ও তারপর
ম্যাচস্টিক ক্যারোট ভেজে নিতে হবে। পরবর্তীতে রঙিন বেল পেপার দিয়ে ভাজতে হবে। এরপর সোয়া সস দিয়ে ভাজা'গুলো মাখিয়ে নাড়াতে হবে। সোয়া সস ফুটে গেলে তারপর ভিনেগার দিতে হবে। আগে থেকে করে রাখা জাসমিন রাইস অল্প অল্প করে ভাজা মিশ্রণ এর সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। পুরোটা মিশে গেলে স্প্রিং ওনিয়ন কুচিয়ে ওপরে ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে।
স্বাদ বা ভ্যারাইটির জন্য এম এস জি (আজিনো মোটো) আর বেবি কর্ন ইচ্ছে হলে দেওয়া যেতে পারে। এগ ফ্রায়েড রাইসে ডিম ভেজে মিশিয়ে নিতে হবে। সোয়া সস এ নুনের পরিমাণ খুব বেশি থাকে, তাই জাসমিন রাইস করার সময় নুন দিতে হবে মনোযোগ সহকারে।
সাথে চিলি ফিশ বা চিলি চিকেন না খেলে এই রাইসকে যথাযথ সম্মান দেখানো হবেনা।
 |
| ধনঞ্জয়ের ফ্রাইড রাইস |