Monday, March 21, 2016

Wasabi কাহিনী

দেশ ছাড়ার পর থেকে নতুন জায়গা নতুন মানুষের সাথে সাথে নতুন খাবারও কম উপভোগ করিনি। তবে আমার ঝোঁক বেশিরভাগই গাছ পালার প্রতি। গাছ পালা না বলে বরং বলি শাক সবজি নাহলে নিজেকে কেমন ডাইনোসর মনে হয় !

নতুন সবজি খেতে পেলে নিজেকে খুব ধন্য মনে করি বিভিন্ন কারণে। এর মধ্যে অন্যতম দুটি কারণ হল আলু,বেগুন,পটল, কুমড়ো ,ফুলকপি খেয়ে খেয়ে পেটে প্রায় চড়া পরে গেছে আর দ্বিতীয় কারণ আমি আবার মাছ মাংসের ভক্ত একেবারেই নই। তাই আমার সবুজ সাথি জিন্দাবাদ !!

​​
জাপান এর একটি বিখ্যাত খাবারের নাম সুশি (Sushi)। না আমি কখনও  জাপান যাইনি। তবে আমেরিকায় বসে সারা পৃথিবীর খাবারের স্বাদ (আমার পছন্দ মত খাবার হতে হবে ) যেকোনো সময় খেতে  পারার সুযোগ হাত ছাড়া করিনি কখনো । সুবিধে হবে সাথে যদি একটি গাড়ি থাকে তো। আমি যেখানে থাকি সেখানে ডজন খানেক সুশি বার। তবে এই খাবারের প্রতি কোনদিনও কোনো বিশেষ আকর্ষন অনুভব করিনি কারণ শুনেছি বেস্ট সুশি নাকি তৈরী হয় কাঁচা মাছ দিয়ে ! এ দৃশ্য কল্পনা করাও আমার পক্ষে কষ্টদায়ক যে আমি কাঁচা মাছ খাচ্ছি ! কিন্তু শুনেছি এতে মাছের সাথে সাথে ভাতের একটি মোড়ক  থাকে আর তার সাথে সবজি কুচি। এর সাথে পরিবেশন করা হয় "Wasabi পেস্ট" বা "Wasabi সস " বা কখনো "Avocado পেস্ট" । ব্যাস আমার জ্ঞান ওই পর্যন্তই। 

অফিসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে মাঝে মাঝে চা বা কফির সাথে টা না হলে ঠিক কাজে মন বসে না। সেইরকম এক দুপুরের কথা। এবেলা বলে রাখি আমি আবার অফিসের দিনে দুপুর বেলা গুলো শুদ্ধ ফলাহার করে থাকি ! রোজ রোজ শরীর ফল খেতে খেতে মাঝে মাঝে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তাই ওই চায়ের সাথে টায়ের সন্ধানে অফিসে রাখা থাকা Vending Machine থেকে এটা ওটা সেটা খেয়ে ফেলি! প্যাকেট গুলো প্রায় চেনা কিন্তু এইদিন একটা নতুন জিনিস চোখে পড়ল । Lays কোম্পানির Wasabi Ginger Kettle Cooked আলু ভাজা। প্যাকেট এর রংটাও বেশ দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। কিনে ফেললাম। তখন খেয়াল করতে পারছিনা Wasabi মাছ না মাংস  না পাতা ! প্যাকেট এর গায়ে কোথাও লেখা নেই "সেফ ফর ভেজিটেরিয়ানস "। প্যাকেট এর পেছনেও যা লেখা তাতে কিছুতেই সিওর হওয়া যাচ্ছে না !সর্বনাশ তাহলে কি আমার এক ডলার জলে গেল! 

মোবাইল খুলে সাথে সাথে গুগল সার্চ "What is Wasabi ?" সামান্য কিছুটা আসস্ত্ব হলাম যাক মাছ বা মাংস গোত্রের কিছুনা। তবে কি? ফুলকপি বা মুলো গোত্রের এক রকম ঝাঁঝাঁলো গাছ ! একে আবার "Japanese horseradish" ও বলে। ব্যাস তবে আর কি প্যাকেট খুলে কামর লাগাও।  একটা আলু ভাজা নিয়ে কামর মারতেই মনে হলো ঝাঁঝের চটে চোখ কান জ্বলে উঠলো ! এদিকে মোবাইলের  Wikipedia স্ক্রীন বলছে এর স্বাদ কাঁচা সর্ষে বাটার কাছাকাছি ।সন্দেহ দ্বিগুন - কি জানি একশ বছরের পুরোনো মাছ মাংস পাইল করা নেই তো, এত ঝাঁঝ ! এ কোন দেশের সর্ষে বাটারে ভাই ? আমার বাবা জেঠা  কাকারা সেই জায়গায় হাজির থাকলে নির্ঘাত বলতেন "খাস না পচা "! আমেরিকানরা এই সর্ষে খেলে কোম্পানির CIO  কে ঘুষি মেরে ধরাশায়ী করে ফেলতে পারে।তাহলে আলু ভাজার গায়ে কি লাগানো যে নাক দিয়ে জল বের করে দিল ? মনে পড়ল ২০০৬,জুলাই মাস। British Airways এ চেপে জীবনে প্রথম একা একা বিলেত যাচ্ছি অফিসের কাজে । গন্তব্য লন্ডন। ফ্লাইট এর সব খাবারই সন্দেহের চোখে দেখছিলাম। গোটা ফ্লাইট এ কিছুই খাইনি বলতে গেলে। ফ্লাইট প্রায় Heathrow নামবে নামবে করছে। সেই সময় আমার কো-পাসেন্জার নেউরো সার্জেন ড:পাহাড়ি ঘোস আমাকে বললেন " দেশের বাইরে পা রাখছ, দেখেই বুঝেছি জীবনে প্রথম,এখন সব কিছু খেতে শেখ , অত বাছলে চলবে?"! কি জানি কি কি ক্যাবলামো করেছিলাম যে তিনি দেখেই বুঝে গেলেন যে মায়ের হাতের রান্না না পেয়ে আমি বেশ বিরক্ত ও চিন্তিত !

Vending machine এর সামনে দাঁড়িয়ে ভাবলাম ছি: ছি: দশ বছরেও শিক্ষা পেলাম না, সেই ভয় সেই সন্দেহ ! নাহ ব্যাপারটা খতিয়ে দেখতে হবে !সাথে সাথে আমার বন্ধু Vicki কে টেক্সট - "please tell me what is wasabi ?" ভদ্র মহিলা কে চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়। ওনার উত্তর " It's safe for you dear, it's a plant and I hope you will really enjoy the heat"! সাথে একটা স্মাইলি ! ব্যাস এবার নিশ্চিন্ত।আমার নতুন শাখ সবজির তালিকায়ে এবার ঝাল গাছ ঢুকে গেল। এক কাপ কফি আর ভয়াবহ ঝাল wasabi ginger আলু ভাজা দিয়ে আমার নাস্তা শেষ ! লন্ডনের জন্য একটু পুরনো শোক উঠলে উঠলো ,ইশ তখন Vicki কেন ছিল না বা স্মার্ট ফোনের Wiki ও কেন ছিল না! আমার সঙ্গা অনুযায়ী কত নতুন সেফ খাবার মিস হয়ে গেছে আমার। 


পরের বার সুশি না খেলেও Wasabi পেস্ট চেখে দেখতে আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। এই গাছ ও তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পড়তে চাইলে এখানে কিছুউ জ্ঞানের কথা জানা যেতে পারে। 



Sunday, March 20, 2016

বসন্ত এসে গেছে ..!

এবার দেশে গিয়ে হঠাৎ শখ হল লক্ষীর পাঁচালী পড়ব। বাবাকে বলতেই বাবা আমাকে নিয়ে গেলেন দশকর্ম ভান্ডারে। মা লক্ষীর পাঁচালী বলতেই মনে পরে মা ও জেঠিমার মুখে "দোল পূর্ণিমার নিশি  নির্মল আকাশ  মৃদু  মন্দ বহিতেছে মলয় বাতাস"! লক্ষীর ধ্যান বা পাঁচালীতে মন থাকত কম আর নজর বেশি করে থাকত প্রসাদ আর ধুপের গন্ধে আর তার সাথে সাথে সুর করে পাঁচালী শোনা যেন আমার বৃহস্পতিবারের নেশা ছিল। আমার লক্ষীর পাঁচালী পড়বার ইচ্ছে নিছকই কৌতুহল বশত।দশকর্ম ভান্ডারে গিয়ে পাঁচালী চাইতেই বাবা চোখ বুলিয়ে বললেন ছাপায় গন্ডগোল ! অন্তত তিনটি দোকানে সেই একই পাঁচালী। বাবার অসীম ধৈর্য্য। বিরক্ত তো হলেনই না বরং ভুল ছাপার কারণে তিনি যে এই বই নিতে পারছেন না তার জন্য তিনি খুব দুঃক্ষ প্রকাশ করলেন দশকর্ম ভান্ডারের কর্মীর কাছে, যেন সে কষ্ট না পায় । কাউকে দুঃক্ষ দেওয়া তাঁর স্বভাব বিরুদ্ধ। বইটি বের করে আনতে কর্মী যদি দুমিনিট ও সময় ব্যয় করে থাকেন সেই সময়েরও মূল্য আছে কিন্তু আমরা তার বইটিতে ভুল ছাপা অক্ষরের জন্য সময়ের সঠিক মূল্যায়ন করতে অক্ষম। "ভাই পাঁচালীর ছাপার অক্ষরে গন্ডগোল আছে, এতো  নেওয়া যাবে না,'পাশাক্ষ'র যায়্গায় 'শাপাক্ষ' ছাপা "।কর্মীর আর কি !তার কাছে পাশাক্ষও যা শাপাক্ষও তাই !আমি দেশ ছাড়ার আগে অবশ্য বাবা আমার পাঁচালী পড়ার শখ মিটিয়েছেন সঠিক বইটি আমাকে উপহার দিয়ে। 

বিগত কয়েক রাত ধরে দোল পূর্নিমার চাঁদ আকাশে ধীরে ধীরে গোলাকৃতি ধারণ করছে আর অফিসিয়ালি নর্দান হেমিসফেয়ারে আজ বসন্তের প্রথম দিন (Spring Equinox)। দেশে আবার বসন্তের শুরু  মানেই সরস্বতী পুজো আর সরস্বতী পুজো মানেই পুজোর সকালে বাবা আমাদের বাড়ীর পুরোহিত। এই ছবিটি কোনো এক সরস্বতী পুজোর সকালে তোলা যখন বাবা ভীষণ ব্যস্ততার মাঝে পুজোয় বসার আগে খবরের কাগজে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন। এবছরের বসন্তের প্রথম দিনটি বেছে নিলাম এই ছবিটির মাধ্যমে বসন্তোৎসব,সরস্বতী পুজো, দোল পূর্নিমা ও আমার লক্ষীর পাঁচালী সবাইকে এক সুত্রে বেঁধে ফেলতে। 

আসন্ন দোল উৎসব  সবার ভালো কাটুক। ....



Friday, March 18, 2016

প্রতিবিম্ব


গতবছরের শেষের দিকে এই ছবিটা আঁকা শুরু করেছিলাম। সদ্য দেশ থেকে পুজোর ছুটি কাটিয়ে তখন ফিরেছি। খুব বেশি পান্ডেলে ঘোরা আমার পোষায় না আজকাল। যেটুকু ঘুরলাম তাতে বুঝলাম ৫ বছর ধরে আমেরিকায় থেকে দেশের সাজ পোশাকের থেকে অনেকটাই দুরে সরে গেছি। কোলকাতার হাল ফ্যাশন এর সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। সেটা বললে অবশ্য অর্ধসত্য বলা হয় কারণ মা আর RJ র দৌলতে অনেকরকম  ফ্যাশনের খবরই পাই। সাথে ছবিও।



আঁকতে বসে মা দূর্গা ছাড়া আর কাউকে মনে পড়ল না। মুখখানা কেমন যেন বিষন্ন মায়ের। চেষ্টা  করেও হাসি ফোটাতে পারলাম না ! পোশাক খানাও সাবেকি আর গয়না গাটিও বনেদী স্টাইলের। ছবিখানা এঁকে যত্ন করে রেখে দিয়েছিলাম । এটা গতবছরের কথা। 


                                   

                                  

                                  

এবার বছর ঘুরল। এবছরের গোড়া থেকেই ভালো শুরু হয়নি আমার। আম্মা চলে যাবার সাথে সাথে সব কিছু গোলমাল হয়ে গেল। দেশ থেকে ফিরে এসে ছবিটা হঠাৎই বেরোলো দেরাজ থেকে। দেখে মনে হলো এবার শেষ করে ফেলা যাক এই ছবিটা। তবে এবার রঙের পালা। বেছে নিলাম women's day র দিন টা মাইলস্টোন হিসেবে, অর্থাৎ তার আগে এই ছবি খানি শেষ করতে হবে।


শুভজিৎ জার্মানি রওনা হবার পরই বসে পরলাম ছবি নিয়ে। শনি ও রবি এই দুদিন সময়ের কোনো জ্ঞান ছিলনা। একমনে ছবি রং করে  গেছি। সঙ্গ দিয়েছে আত্মীয় সজনের ফোন, whatsapp, দেয়াল ঘড়ির টিক টিক,রেফ্রিজারাটারের কম্প্রেস্সর এর চালু ও বন্ধ হবার শব্দ, হিটারের  চালু ও বন্ধ হবার শব্দ আর সত্যজিৎ রায়ের "চারুলতা" এবং তরুণ মজুমদারে "দাদার কীর্তি" ও"ভালবাসা ভালবাসা"।এর মধ্যেই কখন মা তৈরী হয়ে গেল women's day র জন্য !


                                   

                                   

                                   

শেষ হতে আয়নার সামনে ধরে দেখলাম বহু চেনা মুখের প্রতিবিম্ব এই ছবিটায়ে ,তাদের মধ্যে অনেকে আছেন অনেকে আর নেই। 


আমার এই ছবিখানির নাম রাখলাম মহামায়া !






          

Sunday, March 13, 2016

বাহে গুরুজী কা খালসা বাহে গুরুজী কী ফাতেহ

আম্মা যেদিন চলে গেল সেদিন দেশে ২৬শে জানুয়ারী,আমাদের এখানে তখনও ২৫ সন্ধ্যেবেলা। অফিস থেকে ফিরে আমি আর শুভজিৎ Albany Hindu মন্দিরে আম্মার জন্য পূজো দিতে গেছিলাম এই প্রার্থনা করে যে আম্মা যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে নার্সিং হোম থেকে বাড়ী ফিরে যায়। আম্মা তো বাড়ি ফিরল না কিন্তু আমরা বাড়ি ফিরে যখন খবরটা পেলাম তখন মনে হলো ঈশ্বরের কাছ থেকে সপাটে গালে একটা থাপ্পর খেলাম ! এও মনে হলো মন্দিরে কি প্রহশন করতে গেছিলাম ?! এই নিয়ে অনেকে অনেক প্রকার মতামত প্রকাশ করতে পারেন  তাই আর যুক্তি তক্ক গপ্পোর মধ্যে গেলাম না। তারপর থেকে এদেশে আর মন্দির যাবার প্রযোজন বোধ করিনি ।

আমার একা থাকার দ্বিতীয় weekend এর দ্বিতীয় দিন আজ। লিখতে বসেছি কি কি করলাম উল্লেখ যোগ্য আজকের দিনটিতে । একা থাকার  ভালো খারাপ  নিয়ে পুপুর  সাথে বিস্তর আলোচনা হযেছে গত সপ্তাহে বেশ কয়েকবার। তবে মূল কথা হল একা থাকা বেশ  মজার ব্যাপার। ফিরে আসি আজকের কথায়। আজকের প্রধান কাজ বলব ঘড়ির সময় বদলানো ! কাল রাত ২টো থেকে আমাদের ঘড়ি আবার এক ঘন্টা এগিয়ে গেছে তাই তার সাথে তাল মিলিয়ে ঘড়ি বাবু সাজাই আজকের প্রধান কাজ  হওয়া উচিৎ। পরবর্তী আকর্ষণ বলব Albany গুরুদ্বারা তে যাওয়া। এর আগেও একবার গেছি শুভজিৎ আর আমি। আমারই জুনিয়র কলিগ ও তার বর আমাকে আজ আবার জোর করে ধরে নিয়ে গেল। ওরা Sindhi, মাঝে মাঝেই গুরুদ্বারায় যায়। বাড়িতে বসে বেজায় বোর হচ্ছিলাম তাই রাজী হয়ে গেলাম।

যাবার আগে ফোনে বাবা ও মা  দুজনেই শুনে বলল ওদের প্রসাদ হালুয়াটা বড় ভালো খেতে হয়, ওটা মিস করিস না । আমি আজ এতটুকু সুযোগের অপব্যবহার না করে গ্রান্থসাহিব পাঠ,গুরবানী কীর্তনের পর ভক্তি সহকারে ঘিয়ে  চোবানো হালুয়া খেয়ে নিলাম বেশ খানিকটা।আগের দিন লজ্জা করে না খেয়ে বেশ মিস করেছি বুঝলাম। গুরুদ্বারার সিলিঙে স্কাই লাইট দিয়ে ঝলমলে রোদ্দুর ঢুকছে উপাসনা ঘরের ভেতরে।আমার চোখ বার বার সেই আলোর দিকে যাচ্ছে। উপাসনা ঘরের এক কোনে মঞ্চ করে যে সময় গুরবানী বা কীর্তন হচ্ছিল সেই সময়ে ( ভাষা বুঝতে পারছিলাম না বলেই হয়ত) ছোটবেলার একটা ঘটনা মনে পরে গেল। হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষার আগে বাবা আমাকে দিল্লি বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিল। সাথে অবশ্যই মা আর RJ (রুমঝুম) ছিল। দিল্লি থেকে বাবা অপসন দিল আগ্রা যাবে না অমৃতসরের গোল্ডেন টেম্পল। আমি ছাড়া সবার ইচ্ছে ছিল গোল্ডেন টেম্পল। কিন্তু আমি ছোট থেকেই যাকে বলে আদরে বাঁদর ! তাই সেই আগ্রাই যাওয়া হলো এর আগে বহুবার আগ্রা ঘোরা স্বত্তেও ! নেট রেসাল্ট দাঁড়ালো আমার একগুয়েমির জন্য বাবার গোল্ডেন টেমপ্ল ঘোরা হলো না।স্কাই লাইটের আলোর সাংঘাতিক ক্ষমতা! কিরকম গিল্ট ফিলিং করিয়ে ছাড়লে! কানের মধ্যে তখন বাজছে "বাহে গুরুজী কা খালসা বাহে গুরুজী কী ফাতেহ ",পরম ভক্তিভরে মহিলারা একদিকে আর পুরুষরা আরেক দিকে চোখ বন্ধ করে কীর্তনিয়ার সাথে গলা মিলিয়েছে। আমিও মাথায় ঘোমটা দিয়ে তাদের ধর্মীয় চিন্তাধারাকে সম্মান জানিয়ে মহিলাদের দলে ভিড়ে গেছি। শিখ কমুনিটি এখানে যাকে বলে বেশ স্ট্রং। দেশের জন্য এদেশ থেকে উপার্জন করা টাকা পাঠিয়ে এরা অনেক rehabilitation centre খুলেছে পাঞ্জাবে। আরো অনেক কাজ করতে চায় সমাজের জন্য। আমি জানতাম কানাডায় পাঞ্জাবীদের পপুলেশন বেশি। এখন দেখছি নিউ ইরকের ক্যাপিটাল Albany তেও এদের বিশাল প্রতিপত্তি। ওখানে বসে মনে হচ্ছিল পাঞ্জাবে বসে আছি।কারোর সাথে চোখাচোখি হলেই  "ও কায়েসে হো জী "! যেন আমি কতদিনের চেনা। খুব ভালো সময় কাটালাম বলার অপেক্ষা রাখেনা।

এরপর ছিল লঙ্গর ,আমি অবশ্য তাতে খেতে যেতে পারিনি কারণ সত্যটি হলো অতখানি ঘি খাবার পর আর তিল ধরণের জায়গা ছিলনা । তবে খেদ নেই, এই গুরুদ্বারাতেই আমরা লঙ্গরে ভুঁড়ি ভোজ করে গেছি। বাইরে বেড়িয়ে যে সময় সবাই খেতে ব্যাস্ত  সেই সময় বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নিলাম। আর ফোনে অন্তুদাদা আর রিঙ্কু বৌদিকে শুভজিতের এযাবৎ জার্মানি ঘোরার গপ্প শোনালাম ! ওখানেই আগামী বছরের প্লান  ফেললাম অন্তুদাদা আর রিঙ্কু বৌদি কে নিয়ে আমরা এই চত্বরে কোথায় কোথায় বেড়াব! এই হলো আমার আজকের গুরুদ্বারা ঘোরার গপ্প।





এবেলা বলে রাখি  আমাদের Whatsapp এর Colonial Cousins গ্রুপ ক্রমশই ভীষণ ভাবে কলোনিয়াল হয়ে উঠেছে।আজ সকালে পাল্লা দিয়ে FCD (ফুচুদাদা) নিউজিলণ্ড আর শুভজিৎ জার্মানি ছবি ,ভিডিও আর গপ্পে মন তরতাজা করে দিয়েছে। সব থেকে ইন্টারেষ্টিং হল ওদের গপ্প সবই লাইভ কমেন্ট্রি আমার মত রাত জেগে মাথা চুলকিয়ে হাই তুলে চোখের জল মুছে লেখা না !


রাতে আমার দিনোলিপি লিখতে বসে Rang De Basanti ছবিতে শিখ মূলমন্ত্র "এক ওঙ্কার সাথ নাম" শুনে ফেললাম আর রবিঠাকুরের বন্দী বীর কবিতাটা আবার পড়ে ফেললাম। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে কিছু চেয়ে নেবার মানসিকতা এই মুহুর্তে আমার নেই। আপাতত ভাগ্যের ওপর ছাড়লাম বাবার গোল্ডেন টেম্পল যাবার ইচ্ছেপুরণ।

ও হ্যা !সন্ধ্যেবেলা আমাদের কম্যুনিটির ছেলেটা আবার জাগলিং প্রাকটিস করতে এসেছিল। তারও একখানা ছবি দিলাম। বেশ মনে হচ্ছিল আমিও কোনো অর্দৃশ্য শক্তির হাতে জাগলিং প্রাকটিসের একটা বল ! তা নাহলে ২৫শে জানুরারির পর পণ করেছিলাম মন্দিরে যাবনা সেই আমি ঢুকে পরলাম গুরুদ্বারাতে আর আবার নতুন করে মাথায় ঢুকলো গোল্ডেন টেম্পল যাবার কি হবে! একেই বলে "নাই লজ্জা যাহার "।


Saturday, March 12, 2016

মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি

এটা আমার এবছরের প্রথম পোস্ট। প্রায় একবছর আগে শুরু করেছিলাম আমার Kaleidoscope.বেচারার  এবার জন্মদিন ও পালন হলনা। তার অবশ্য নানা কারণ আছে যার মূল হলো আমার দিদিমা চলে গেলেন গত ২৬শে জানুয়ারি। আমি তখনও দেশে যেতে পারিনি। Kaleidoscope কে বেশ কিছুদিনের জন্য দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম।মাঝে আবার ঝটিকা সফরে ঘুরে এলাম দেশ থেকে দিন ১৫র জন্য।কিছুদিনের জন্য মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল যে আম্মা আর নেই। এখনো মেনে নিইনি, হাজার কাজের মধ্যে মাঝেমাঝেই মাথায় চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে কেন শেষ সময়টা তাঁর সাথে থাকতে পারলাম না।নিজেকে কিছুটা হলেও ভুলিয়ে রাখার জন্য ভাবলাম আবার আমার Kaleidoscope এ প্রলাপ বকা যাক। 

মনের বাদল টুটে যাবার কোনো কারণ এই মুহুর্তে হয়নি। তবুও পোস্টটার শিরোনাম তাই রাখলাম। তার কারণ আজকের অভাবনীয় ঝলমলে আবহাওয়া ! প্রায় বহুদিন পর এরকম সোনার রঙের রোদে শহর ভেসে যাচ্ছে। কাল রাতের বদলে বলা ভালো আজ ভোরে শুতে গেছি প্রায় চারটের সময় । কারণ একটা লেখা শেষ করছিলাম। শুভজিৎ এখন জার্মানি তাই আমি দিব্য একা বাড়ির রানী হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি ! এখন মনে হচ্ছে একা থাকার অসুবিধে থেকে সুবিধেই বেশি! ভীষন ভালোবেসে পাড়া প্রতিবেশীর উড়িয়া ,বিহারী,সিন্ধি বৌদি ও বন্ধুরা ডিনার দিয়ে যাচ্ছে প্রায় রোজ ! ফোনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে রোজ সন্ধ্যে থেকে রাত। অফিস এর সময়টুকু কাজ তারপর বাড়ি ফিরেই ফোনে আড্ডা! আত্মীয়দের সাথে যেমন কথা হয় (দৈনিক ও সাপ্তাহিক) তার কোনো বিরাম নেই।

একা থাকার দ্বিতীয় weekend এর শুরুর দিন আজ।  আজ সারাদিন কি কি উল্লেখ যোগ্য ঘটনা ঘটল?

ঘুম থেকে উঠে সটান জানলা বাগানে চোখ। সকালে জানলা দিয়ে আলোর বন্যা বয়ে যাচ্ছিল তাই দেখে ব্যাঙ বাবাজি লাফিয়ে উঠেছে। 



দুপুরে জানলা দিয়ে উঁকি মেরে ইনিও দেখে গেলেন আমি ভালো আছি কিনা! এনার নাম Jasper! ইনি মাঝে মাঝে খুব গম্ভীর মুখ করে পাড়া বেড়াতে বেরোন !



সন্ধ্যে বেলা  গতকালের কেনা গার্ডেন সোলার টর্চ দুটো পরীক্ষা করলাম জলছে কিনা ,দেখলাম জলছে কিন্তু টা পরীক্ষা করার জন্য আমাকে অন্ধকার করতে হযেছিল ঘর, কোই ভয় লাগলো না তো !


রাতে মাননীয় মুখ্য মন্ত্রী শ্রীমতি দিদি বন্দোপাধ্যায়ের (ওরফে মমতা বন্দোপাধ্যায়) রেসিপি দিয়ে তৈরী করলাম পোস্ত আর ডিমের বড়া ! রেসিপিটা মার কাছ থেকে ফোনে গত সপ্তাহে শুনে নিয়েছিলাম। সেই থেকে মাথায় ঘুরছিল কবে করে খাব!




বিগত আট দিন আমার একটানা একা থাকার উপলদ্ধি - একা মানে বোকা নয়; একা মানে বুদ্ধিমান! তাই বলি "আমার পাড়ার বৌদিরা যেন থাকে দুধে ভাতে" !



Friday, March 11, 2016

Guest Post 1: WOMEN'S DAY

Guest of Honor: Pupu Mukherjee 

Hello my blogspot and my readers !! I am back this year.Hope you all had a great start. I was after my parents,sister,husband, in-laws,cousins,family and friends for guest posts to fillup my blogsite with more colors and stories.And then it arrived one bright sunny afternoon :-) Much awaited guest post reached my mailbox the day next to Women's Day ! Thank you Pupu Mukherjee for I will treasure this forever....

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
||WOMEN'S DAY||

I woke up on 8th of March. It was unusually lovely weather for early March in Philadelphia.The sun was streaming in gently, creating patterns all over the room. I opened one eye and looked at the time on my mobile.The first thing I noticed is that Google has already wished me a Happy Women's Day. Then I noticed the time. I still had about 20 minutes more to lounge in bed before I absolutely had to get up to reach work at a respectable time. It might also mean that I will have to miss breakfast but last year there were special chocolates kept at work for Women's Day, I remembered. So I decided to utilize the 20 minutes wisely, hugged my pillows closer and opened the internet. I have this app on my super smart phone which tells me about all the deals that are around and thanks to Women's day there were deals and discounts on almost everything a woman could possibly need. From perfumes, to lipstick, to dresses and even shapewear(I mean you cannot feel beautiful unless you are sucked and tucked in every possible way because it's women's day and you are not allowed to be fat no matter how many free chocolates you are offered). There were restaurants, offering free appetizers and welcome drinks and if you have a man with you who is wonderful and has taken you out for a meal then in some restaurant your entrée is free with that of the lovely man who has taken you out for the special meal. Reminiscing about Rahul Bose from "Mr and Mrs Iyer" and wishing he was around to take me out for a Women's day lunch I opened facebook. I still had about 14 minutes. Facebook enquired how I planned to spend this special day. The next were a bunch of suggestions from Groupon about various spas where I could indulge myself , specially on that day at a discounted rate ofcourse. There were inspirational quotes everywhere from almost everyone. How women are revered and how they command respect. India special of how we should remember the strength of women as they are our mothers(because being a mother is the only achievement that can make women respectable). There were virtual flowers and virtual salutes and virtual hearts.

And then there were two pieces of news that caught my eye. The first one, a 58 year old woman was shoved to the ground by her cab driver so hard that she had a deep wound on her head because she got out of the cab without paying $11. She just wanted to go inside her house and get the money. This tiny little incident happened in Germantown about 15 minutes from where I was hugging my pillow on this unusually lovely March morning. The second one was from the capital of my country. My country which worships women as God( and will happily incarcerate by accusing that you worship the man that woman defeated ). A 28 year old woman after attending a family function decided to wait in a bus station because it was too late. She was dragged inside the bus by the driver and conductor. When she resisted they gagged and raped her. And they flung her 14day old infant to the ground because his crying was getting in the way. What if she was a mother? She was NOT THEIR mother. Neither was she "Gai Mata" or "Bharath Mata". She was a woman and therefore just an object to devour, to use and discard as desired..

It did not seem like a unusually lovely March morning anymore. I was feeling hot and suffocated. I glanced at the clock again. I was five minutes late already. Time to get back to reality.

Oh and Yes! Happy Women's Day!

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

And if you want to know who Pupu is,well she is my adorable cousin and the rightmost in the below picture in magenta frock followed by me in yellow and my sister in red :D. She is also the Kollage maker of http://kolkatakollage.blogspot.com/ 


Three cheers for the Genda ful sisters ! (Kohima, AP)