এবার দেশে গিয়ে হঠাৎ শখ হল লক্ষীর পাঁচালী পড়ব। বাবাকে বলতেই বাবা আমাকে নিয়ে গেলেন দশকর্ম ভান্ডারে। মা লক্ষীর পাঁচালী বলতেই মনে পরে মা ও জেঠিমার মুখে "দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ মৃদু মন্দ বহিতেছে মলয় বাতাস"! লক্ষীর ধ্যান বা পাঁচালীতে মন থাকত কম আর নজর বেশি করে থাকত প্রসাদ আর ধুপের গন্ধে আর তার সাথে সাথে সুর করে পাঁচালী শোনা যেন আমার বৃহস্পতিবারের নেশা ছিল। আমার লক্ষীর পাঁচালী পড়বার ইচ্ছে নিছকই কৌতুহল বশত।দশকর্ম ভান্ডারে গিয়ে পাঁচালী চাইতেই বাবা চোখ বুলিয়ে বললেন ছাপায় গন্ডগোল ! অন্তত তিনটি দোকানে সেই একই পাঁচালী। বাবার অসীম ধৈর্য্য। বিরক্ত তো হলেনই না বরং ভুল ছাপার কারণে তিনি যে এই বই নিতে পারছেন না তার জন্য তিনি খুব দুঃক্ষ প্রকাশ করলেন দশকর্ম ভান্ডারের কর্মীর কাছে, যেন সে কষ্ট না পায় । কাউকে দুঃক্ষ দেওয়া তাঁর স্বভাব বিরুদ্ধ। বইটি বের করে আনতে কর্মী যদি দুমিনিট ও সময় ব্যয় করে থাকেন সেই সময়েরও মূল্য আছে কিন্তু আমরা তার বইটিতে ভুল ছাপা অক্ষরের জন্য সময়ের সঠিক মূল্যায়ন করতে অক্ষম। "ভাই পাঁচালীর ছাপার অক্ষরে গন্ডগোল আছে, এতো নেওয়া যাবে না,'পাশাক্ষ'র যায়্গায় 'শাপাক্ষ' ছাপা "।কর্মীর আর কি !তার কাছে পাশাক্ষও যা শাপাক্ষও তাই !আমি দেশ ছাড়ার আগে অবশ্য বাবা আমার পাঁচালী পড়ার শখ মিটিয়েছেন সঠিক বইটি আমাকে উপহার দিয়ে।
বিগত কয়েক রাত ধরে দোল পূর্নিমার চাঁদ আকাশে ধীরে ধীরে গোলাকৃতি ধারণ করছে আর অফিসিয়ালি নর্দান হেমিসফেয়ারে আজ বসন্তের প্রথম দিন (Spring Equinox)। দেশে আবার বসন্তের শুরু মানেই সরস্বতী পুজো আর সরস্বতী পুজো মানেই পুজোর সকালে বাবা আমাদের বাড়ীর পুরোহিত। এই ছবিটি কোনো এক সরস্বতী পুজোর সকালে তোলা যখন বাবা ভীষণ ব্যস্ততার মাঝে পুজোয় বসার আগে খবরের কাগজে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন। এবছরের বসন্তের প্রথম দিনটি বেছে নিলাম এই ছবিটির মাধ্যমে বসন্তোৎসব,সরস্বতী পুজো, দোল পূর্নিমা ও আমার লক্ষীর পাঁচালী সবাইকে এক সুত্রে বেঁধে ফেলতে।
আসন্ন দোল উৎসব সবার ভালো কাটুক। ....
No comments:
Post a Comment