Monday, November 6, 2017

||শুভ মহাষষ্ঠী ২০১৭ ||



||শুভ মহাষষ্ঠী||

বিদেশে বসে অফিসের কাজে একটুও মন বসছেনা। সারাদিন ধরে কলকাতার ঠাকুর ও মণ্ডপের ছবি পেয়েছি মোবাইলে। মাথার মধ্যে পুজোর গল্পের আনাগোনা সপ্তাহ শুরুর ক্লান্তি দূর করেছে। ​শশীবাবুর তুলির টানে মায়ের চক্ষুদান পর্ব নিশ্চয়ই শেষ। হাতে হ্যান্ডিক্যাম নিয়ে কোনো এক জয় কোনো বনেদি বাড়ির সাদা কালো খোপ কাটা মেঝেতে এক্কা দোক্কা খেলতে খেলতে পারিবারিক ফটোশুটের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তুতো ভাই বোনেদের খুঁনসুটি একপাল রঙিন প্রজাপতির মতো পাখনা মেলে বাড়ির নাটমন্দিরে ঘুরপাক খাচ্ছে , তাদের হাসি ঠাট্টায় গাঁথা মালা যেন নাটমন্দিরের থামের গায়ে জড়ানো গাদার মালা। পরিবারের সকলের সম্মিলিত হাসি যেন আলোর ফোয়ারা। না না এই দৃশ্যটা বরং অষ্টমীর জন্য তোলা থাক। আজ বরং প্ল্যান প্রোগ্রামের দিন - কবে কোনদিকে ঠাকুর দেখতে বেরোবো তার প্ল্যান। তবে বাড়ির পুজো আর তাকে কেন্দ্র করে আড্ডা কিন্তু প্রায়োরিটি ওয়ান ! মনে আছে ছোটবেলায় একটা দূর্গা পুজোর পর বড়জেঠুর বাড়িতে মিটিং হয়েছিল। বাবারা সাত ভাই দুই বোন ও তাদের পরিবার নিয়ে। মিটিংয়ের এজেন্ডা ছিল মুখার্জি বাড়ির পুজো শুরু করা দেশের বাড়ি নবদ্বীপে। আমরা এই প্রজন্ম এখনো আশা করে বসে আছি অন্দরমহলের লম্বা সবজে বারান্দায় পুজোর সকালের প্রথম নিমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি শরতের সোনালী রোদ এর সাথে লুকোচুরি খেলবো বলে, সাদা কালো খোপ কাটা মেঝেতে আনাড়ি হাতে আলতা পড়া পায়ে নুপুরের আওয়াজ তুলে বোনেদের ছুটোছুটি জানান দেবে অন্দরমহলের হৃদস্পন্দন। মা কাকিমা জেঠিমাদের লাল পেড়ে একরকম দেখতে শাড়ি হবে অন্দরমহল থেকে নাটমন্দির যাবার পথে আকাশের দিকে লাজুক চোখে চেয়ে থাকা খোলা বারান্দার শোভা। দৃশ্যটা কোনো রুপোলি পর্দার না, সম্পূর্ণ মনের আয়নার , যে আয়না এখন শরতের রোদের আলোয় ঝলমলে। 
সবার পুজো আনন্দে ভরে উঠুক। শুভ মহাষষ্ঠী।

No comments:

Post a Comment