Thursday, June 4, 2020

।।লকডাউন ডায়েরি - আমি চঞ্চল হে আমি সুদুরের পিয়াসি ।।

লকডাউনের ডাইরির পাতায় নতুন সংযোজন ছিল ৩০শে মে শনিবারের ভারত আর মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্র ব্যাপী আমাদের পারিবারিক  'মানস ভ্রমণ' অনলাইন আড্ডা । মানুষের সহজাত অভ্যাস গুলির অন্যতম  অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনা , অদেখাকে দেখা। আর এই অভ্যাসের খিদে গুলি যাদের মধ্যে প্রবল সেই রকম কিছু মানুষ একত্রিত হয়েছিলাম গতকাল। উদ্যেশ্য ছিল আমাদের বয়জ্যেষ্ঠ মানুষদের বিশাল সমুদ্রর সমান ভ্রমণের সম্ভার থেকে একফোঁটা জল সংগ্রহ করার প্রচেষ্টা। আমরা নতুন প্রজন্ম তাদের পথের পথিক , আমরাও পিছিয়ে নেই।  তাই নতুন প্রজন্ম থেকেও সমান উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে আমাদের অভিজ্ঞতার আদান প্রদান ঘটল।  অনলাইন আড্ডার উদ্দেশ্য মহাসমারোহে সফল হয়েছে। প্রায় একমাসের প্ল্যানিং পর আড্ডার  দিনক্ষণ ঠিক হলো । বক্তারা সবাই তৈরী হলেন আর তার সাথে সাথে  মপমু তৈরি করে ফেললো আড্ডার ফ্লায়ার।    

মানস ভ্রমণ অনলাইন আড্ডায়  অঙশগ্রহনে ছিলেন - রনামু , উসে, চামু এবং ইমু । সঞ্চালনায় মমু । শ্রোতা ও দর্শকের ভূমিকায় লোমু, বাসে, মপমু , শুসে । 

আড্ডা শুরু হয় রনামুর উত্তর পূর্ব ভারতের অভিজ্ঞতা দিয়ে।  কর্মসূত্রে  রনামু প্রায় দীর্ঘ ৫ বছর  উত্তর পূর্ব ভারতে থেকেছেন। ঘুরতে হয়েছে প্রায় সবকটি রাজ্য। উজাড় করে দিলেন তাঁর কিছু অভিজ্ঞতা। যাত্রা শুরু হল অসম এর চা বাগান থেকে ব্রহ্মাপূত্র নদ, ফেরি ঘাট ,পাহাড়, গুয়াহাটি, কোহিমার বিখ্যাত পর্বতমালা, মক্কচং এবং সবশেষে মনিপুরের মংপু।  ছোটবেলার একাংশ আয়নার মতো দেখলাম রনামুর উপস্থাপনায়। শেষ চমক রনামুর রোমহর্ষক অনৈসর্গিক অভিজ্ঞতার সামান্য ঝলক পেলাম সকলে। শেষ হয়েও যেন শেষ হলনা, রবিঠাকুরের ছোট গল্পের মতো !

পরবর্তী বক্তা চামু । দীর্ঘদিন নিজের জন্মস্থান ও নিজের প্রিয়মানুষগুলোকে ছেড়ে কর্মসূত্রে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকতে হলে সাধারণ ভাবেই নিজের শহরটাই প্রিয় হতে বাধ্য। চামুর উপস্থাপনায় শুরু থেকে শেষ ভীষণ ভাবে নস্টালজিক। কারণ কলকাতা। শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিলো কলকাতার গলি গুলো পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এবং বাঙালিদের চির স্মরণীয় ও চিরবরণীও সবাইকে ছুঁয়ে গেছে চামুর উপস্থাপনা । শেষে পাড়ার আলোর চাঁদোয়ার ছবিখানি সত্যি মনে করিয়ে দিলো যেন বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে আছি। 

আড্ডার তৃতীয বক্তা ইমু । ইমুর চোখ দিয়ে আমরা বিষ্ণুপুর ভ্রমণ সারলাম। বিষ্ণুপুরের অসংখ্য মন্দির , টেরাকোটার কাজ, মন্দিরের গায়ে খোদাই করা প্রাচীন শিল্পীদের হাতে তৈরী অভুতপূর্ব কারুকার্য , মন্দিরের স্থাপত্য সব  দেখে মনে হচ্ছিল ১৭০০ শতাব্দীতে কোনো মন্দিরে দাঁড়িয়ে বিষ্ণুপুরী ঘরানায় রাধামাধবের কীর্তন শুনছি। ইমু শেষ করল এই বলে যে বিষ্ণুপুরের প্রায় সব রান্নায় পোস্ত দেওয়ায় হয় । পোস্ত আর ভ্রমণ প্রিয় বাঙালির স্বর্গ মনে হল বাঁকুড়ার লালমাটির শিল্পকর্মকান্ড কে ।

আড্ডার সর্বশেষ বক্তা উসে। উসের পায়ের তলায় শর্ষে ।  উপস্থাপনায় তারই ঝলক । কেদারনাথের সেকাল ও একাল, বদ্রীনাথ ও রুদ্রনাথের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ছবির  সাথে সাথে আমরা প্রত্যেকে মানসভ্রমণ করলাম।  ট্রেকিঙের ছবি দেখে মনে হচ্ছিলো এখুনি বুট টা গলিয়ে স্যাক তা পিঠে ঝুলিয়েনি । কেদারনাথের সেকাল একাল এর ছবি দেখে কোথায় যেন মন হল আমাদের সাথে সাথে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অনেককিছু হাড়িয়ে ফেলছে। মানুষের লোভই হয়তো এর কারণ। উসের উপস্থাপনার উপরি পাওনা জোরদার ভ্রমণ প্লানের একঝলক  - হাতে আঁকা মানচিত্র ! পঞ্চকেদারের তিন কেদারের ঝটিকা সফর দিয়ে আমাদের প্রথম অনলাইন ভ্রমণ আড্ডা পর্ব শেষ হল। 

মানস ভ্রমণ আড্ডা থেকে পরম প্রাপ্তি ভ্রমনের অভিজ্ঞতা শোনা আর আগামী দিনের দিকে চেয়ে থাকার জন্য আলোর বিন্দুর হদিশ পাওয়া । কথায় আছে প্রত্যেক মানুষের একটি করে তৃতীয় নয়ন থাকে, লুকোনো । বিশেষ কারণে সেটা ব্যবহার করা হয়।মানস ভ্রমণ আড্ডায় আমাদের সবার সেই তৃতীয় নয়ন একসাথে কাজ করেছে। 

শনিবারের উপস্থাপনার সুন্দর মুহূর্ত গুলো থেকে কিছু ছবি রইলো নীচে। পরবর্তী সভার আয়োজনের কাজে লেগে পড়তে হবে।

চরৈবেতি !

 
 মপমুর   ফ্লায়ার   



রনামুর উপস্থাপনা থেকে 



চামুর  উপস্থাপনা থেকে



ইমুর  উপস্থাপনা থেকে



উসের   উপস্থাপনা থেকে







No comments:

Post a Comment