"Good Friday is not an official holiday in the United States"! গুড ফ্রাইডের ঠিক আগেই গুগুল এই কথা বলল ! বছরের শুরুতেই সারা বছরের ছুটির তালিকা অফিস থেকে আমাদের ইমেইল করে জানানো হয়। এটা অনেকটা অফিস থেকে পাওয়া New Year গিফট বলা যেতে পারে। অনসাইট এ থাকলে আমাদের আবার দুরকম তালিকা মাথায় নিয়ে ছুটিছাটা প্লান করতে হয় - আমার অফিসের লিস্ট আর ক্লায়েন্ট অফিসের লিস্ট (ক্লায়েন্ট অর্থাৎ যে কোম্পানির জন্য কাজ করতে আমেরিকায় আসা)।এত লিস্টের তলায় মাঝে মাঝে চাপা পড়ে যায় বেড়াতে যাবার ইচ্ছে!
গুড ফ্রাইডেতে ছুটি পাওয়াটাই স্বাভাবিক বিশেষ করে তুমি যখন পশ্চিমে আছ। কিন্তু অবাক কান্ড আমেরিকা এসে পর্যন্ত কোনদিনও গুড ফ্রাইডেতে ছুটি পেয়েছি বলে মনে করতে পারিনা।যে যে স্টেট এ কাজ করেছি এযাবৎ তারা কেউ ছুটি দেয়না। এদিক থেকে ইউনাইটেড কিংডম অনেক ভালো বলতে হয়। ছুটি তো বটেই একেবারে চারদিনের ছুটি! টানা শুক্র থেকে সোমবার যাকে ওরা বলে ইস্টার হলিডে। মানে গত বৃহস্পতিবার কি কাজ করেছ সেটা কোথাও নোট করে না রাখলে বেড়িয়ে খেলিয়ে পরের মঙ্গল বার যখন অফিসে ফিরবে তখন মগজে বেশ চাপ পড়বে !
এবারের গুড ফ্রাইডেও বেশ অনুজ্জল ছিল। না ছিল ছুটি না ছিল পরিষ্কার আকাশ। গোটা কতক মিটিং সেরে দুপুরের দিকে যখন অফিস গড়ের মাঠ তখন আমি আর শুভজিৎ বেড়িয়ে পরলাম। উদ্দেশ্য অফিস আর বাড়ির মাঝামাঝি একটা মোরোক্কান রেস্তোরাঁতে লাঞ্চ করব । ছুটি নেই তো কি হয়েছে পেট পুজো করেই নাহয় সেলেব্রেট করা যাক ! এই রেস্তোরাঁটি Schenectadyর বিখ্যাত একটি খাবার জায়গা। আমেরিকানরা দল বেঁধে এখানে খেতে আসে। এর বিশেষত্ব হলো রেস্তোরাঁটির ওনার দম্পতি এক ভারতীয় ভদ্রমহিলা এবং এক পাকিস্তানি ভদ্রলোক।তাদের আলাপ মরক্কো তে। তাই মরক্কো তাদের কাছে খুব প্রিয় জায়গা। সেই আলাপ এবং ভালো লাগার স্মৃতিকে ধরে রাখতে এই আয়জন। জায়গাটির নাম Tara Kitchen।
![]() |
| তারা কিচেন |
এর আগে আমি অফিসের টিম মেটদের সাথে বহুবার এসেছি এই জায়গায় । তবে শুভজিতের এটা প্রথম ভিসিট। দেড় তলায় উঠে সোজা গেলাম বাইরে বারান্দায়। ওখানে বসলে মনে হবে দেশের কোনো হিল স্টেশন এর রেস্তোরাঁতে বসেছি। কাছেই একটা গাছের ডাল থেকে মোটা Wind Chime ঝুলছে।এইদিন ভীষণ জোরে হাওয়ার চোটে গোটা Schenectady উড়ে যাবার যোগার।বারান্দার কাছেই প্রকান্ড Chime এর মোটা লোহার পাইপ জোরে জোরে দুলে উঠছে আর ওখানে বসে মনে হচ্ছে উত্তর ভারতের কোনো পাহাড়ি মন্দিরের কাছে বসে আছি যেখানে থেকে থেকে ঘন্টা বেজে উঠছে। তফাৎ একটাই কোনো বাঁদর বা হনুমান কে বাদাম খাওয়ানোর সুযোগ নেই। রেস্তোরাঁর আরেকদিক থেকে ক্রমগত Amtrack ট্রেন স্টেশন থেকে whistle বাজছে। শিরশিরে ঠান্ডা ভাবটা কাটালাম মিন্ট টি উইথ হনি দিয়ে।
এরপর একে একে খাবার এলো। মোরোক্কান খাবারের কিছু বিশেষত্ব লক্ষ্য করেছি। ঐদিনও আরো বেশি করে লক্ষ্য করলাম। তার মধ্যে দশটি অবসার্ভেসন শেয়ার করছি -
![]() |
| মিন্ট টি উইথ হনি |
এরপর একে একে খাবার এলো। মোরোক্কান খাবারের কিছু বিশেষত্ব লক্ষ্য করেছি। ঐদিনও আরো বেশি করে লক্ষ্য করলাম। তার মধ্যে দশটি অবসার্ভেসন শেয়ার করছি -
১.বেশ মশলা , পেঁয়াজ ও রসুনের আধিক্য
২.বেশ তেল
৩. ভয়াবহ ঝাল আর দুর্দান্ত মিষ্টি স্বাদ একসাথে একই আইটেম এ পাওয়া যাবে
৪. একবেলা খেলে আরেক বেলা খাওয়া বেশ চাপের ব্যাপার
৫. সাধারণত মোরোক্কান "Harissa Sauce" বেশ ঝাল কিন্তু এদের সস এর ভার্সন একটু মিষ্টি
৬. Preserved lemon দিয়ে তৈরী এদের একটি স্পেশাল ডিশ আছে। ব্যাপারটা খুব সহজ - পোলাউ এ লেবুর আচার মিশিয়ে দাও
৭. এদের কাবাব ভুবন বিখ্যাত
৮. মোরোক্কান রান্নায় জিরের (বাটা বা গুরো) প্রাধান্য বেশি
৯. খেজুর বাটা ও বেদানা দিয়ে এদের প্রচুর রান্না
১০.এদের কাঠি রোল দুর্দান্ত খেতে কিন্তু কলকাতার রোলের কাছে শিশু
রেস্তোরাঁর মালিকের বাড়ির একটি অংশ জুড়ে এই খাবার জায়গা। দেওয়াল জুড়ে মরক্কো বা তুরস্কের বিখ্যাত ছবি । তুমি যা অর্ডার দেবে এরা তোমার সামনে বসেই রান্না করে দেবে।রান্নাঘরটি যাকে বলে ওপেন কিচেন তাই একতলায় বসার চেষ্টা করলে খেতে খেতে কেঁদে ফেলতে পারো রান্নার ঝাঁঝে। সুতরাং বারান্দায় বসাই বুদ্ধিমানের কাজ। কৌতুহল হয় সারাদিন এত ভালো ভালো খাবারের গন্ধ নাকে নিয়ে বাড়ি ও রেস্তুরাঁর ওনারপরিবার রাতে ঘুমের মধ্যে কি কি স্বপ্ন দেখে?
আমাদের এইদিন মেনুতে ছিল "spicy harissa with pita bread", "chicken kathi roll", "chicken meatballs with preserved lemons and green olives"।এদের ডেসার্ট মেনুতে "বাকলাভা" চোখে পড়ল। এটা সম্ভবত এদের স্পেশাল প্যাস্ট্রি যার উৎপত্তি তুরস্কে বা অটোমান এম্পায়ার এ। তবে আজ আর না,ওটা পরের দিনের জন্য থাক। পেট পুজো সেরে এবার বাড়ি ফেরার পালা।
![]() |
| হরিসা উইথ পিটা |
![]() |
| চিকেন মিট বলস উইথ প্রেসার্ভেদ লেমন |
![]() |
| টেবিল সাজানো খাবারে |
![]() |
| কাঠি রোল |
জ্যাকেট ভর্তি মশলা ,রান্নার ধোঁয়া ও খাবারের গন্ধ নিয়ে রেস্তোরাঁর বারান্দা দিয়ে যখন বেরোচ্ছি তখন চোখে পড়ল দুর্দান্ত একটা ব্যালকনি হিটার ঠিক চিমনির আকারে। এটা না থাকলে ওই বারান্দায় ঠান্ডা আমেজটা এত ভালো ভাবে উপভোগ করতাম না, খাবার আগেই জমে কাঠ হয়ে যেতাম। ফেরার পথে চোখে পড়ল টাউন হল এর ওপর মেঘের ঘনঘটা। তখুনি বাড়ি না ফিরলে ভিজে কাক হয়ে যাব এইভেবে বাড়ির দিকে রওনা হলাম।
![]() |
| চিমনি |
![]() |
| মেঘলা দিনে টাউন হল |








No comments:
Post a Comment